ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর ৩৬ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশ-ইন চেষ্টা বিজিবি প্রতিরোধ করেছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকার সবসময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার ঘটনা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের জন্য বিএসএফকে অনুরোধ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল সীমান্তে সমন্বিত টহল এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিওপির আওতাধীন ৫-৭ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী বা অস্থায়ী পোস্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং মাদক ও চোরাকারবারের রুট বন্ধ করতে রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের নদী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাত বা ঘন কুয়াশার সুযোগে পুশ-ইন, মাদক বা চোরাকারবার বন্ধ করতে থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস ও সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে অপরাধের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পুশইন ও চোরাকারবারিদের ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের নিয়ে একটি ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর ৩৬ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশ-ইন চেষ্টা বিজিবি প্রতিরোধ করেছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকার সবসময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার ঘটনা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের জন্য বিএসএফকে অনুরোধ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল সীমান্তে সমন্বিত টহল এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিওপির আওতাধীন ৫-৭ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী বা অস্থায়ী পোস্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং মাদক ও চোরাকারবারের রুট বন্ধ করতে রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের নদী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাত বা ঘন কুয়াশার সুযোগে পুশ-ইন, মাদক বা চোরাকারবার বন্ধ করতে থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস ও সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে অপরাধের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পুশইন ও চোরাকারবারিদের ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের নিয়ে একটি ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।