আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর নাড়ি ও রক্তনালী কেটে ফেলার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা। তিনি বলেন, ডাক্তারদের ভুলের পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের শেষ সম্বল একখণ্ড জমিও বিক্রি করতে হয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শৈলকুপার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ হোসেন জানান, গত ১৮ মে তার মেয়ে মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানান, রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে, দ্রুত অপারেশন না করলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হবে। এরপর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে, তার নিজের নির্দেশনায় মিতাকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
অভিযোগ করা হয়, ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার ডেকে আনা অন্য এক চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন ভুক্তভোগী মিতার পিত্তথলি অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশনের সময় তারা পিত্তথলির আশপাশের বেশ কিছু নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলেন। এতে রোগীর পেট থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখেও ডা. মামুন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও রেফার না করে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই আটকে রেখে চিকিৎসা দেন।
পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে গত ২৩ মে ১১ হাজার টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো সিট না পাওয়ায় ওই রাতেই রোগীকে রাজধানীর ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে’ ভর্তি করতে বাধ্য হয় পরিবার।
সেখানে দীর্ঘদিন আইসিইউ ও পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে মিতার জীবন রক্ষা পায়। তবে বেসরকারি ওই হাসপাতালের বিল আসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দরিদ্র বাবার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার জন্য তাকে নিজের শেষ সম্বল জমিও বিক্রি করতে হয়েছে।
মাজেদ হোসেন বলেন, ডাক্তারদের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে আমার মেয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেছে। তিনি জড়িত ডাক্তারদের বিচার দাবি করেন। এই ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান।
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন রোগীর স্বাস্থ্যহানির কথা স্বীকার করেন। আল মামুন বলেন, তিনি অপারেশন করেননি। তিনি অজ্ঞানের জন্য ডাক্তার হিসেবে অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন। অপারেশন করেছেন রাজবাড়ি জেলার পাংশা এলাকার চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দীন। অপারেশনের জন্য কী ঘটনা ঘটেছে তা নাসির উদ্দীন বলতে পারবেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















