আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রতি বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সম্ভাবনাময় নতুন সিরিজ। তবে বড় প্রিমিয়ার ও বহুল আলোচিত শোগুলোর বাইরে এমন কিছু সিরিজও থাকে, যেগুলো পরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য পায়। ২০২৬-এর আয়োজনে ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, করপোরেট প্রতারণার কাহিনিসহ বিভিন্ন ঘরানার পাঁচটি আন্তর্জাতিক সিরিজ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি সিরিজ ‘অ্যানি’।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, থিয়েটার ও বিনোদন ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য হলিউড রিপোর্টার এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে শুরুতেই রয়েছে ‘অ্যানি’। যথাক্রমে রয়েছে অস্ট্রিয়া, ইসরায়েল, জার্মানি, ও ফ্রান্স-বেলজিয়ামের চার সিরিজ।
১. ‘অ্যানি’ (বাংলাদেশ)
এবারের উৎসবে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ‘অ্যানি’। এটি সেরিয়েনক্যাম্প উৎসবে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি সিরিজ। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। এর আগে এই নির্মাতার সিনেমা ‘রেহেনা মারিয়ম নূর’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন সার্টেইন গার্ড বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছিল। নাজিফা তুষির পাশাপাশি ‘অ্যানি’ সিরিজে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু, নাজাহসহ অনেকে।
তুষির চরিত্র অ্যানি একজন তরুণ নার্স, যিনি নিজের পাঁচ ভাইবোনকে আগলে রেখে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান। এক ভয়াবহ হামলার পর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে যায় চিরতরে। নিজের ভেতরে ও চারপাশে জমে থাকা সব ঘৃণার সঙ্গে লড়তে লড়তে, অ্যানি এমন এক অন্ধকারে নিজেকে খুঁজে পান, যেখান থেকে তিনি প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না।
২. ‘ব্রাউনশলাগ ১৯৮৬’(অস্ট্রিয়া)
অস্ট্রিয়ার কাল্ট ডার্ক কমেডি ‘‘ব্রাউনশলাগ’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে ফিরেছে এই সিরিজ। নির্মাতা ডেভিট শালকে এবার কল্পনা করেছেন এমন এক শহরের, যেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়—সমস্ত সমস্যার সমাধানে তারা আবার ১৯৮৬ সালে ফিরে যাবে!
ডিজিটাল ডিটক্স সংস্কৃতি, নস্টালজিয়া এবং প্রাদেশিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক ব্যঙ্গাত্মক ও অদ্ভুতুড়ে কমেডি।
৩. ফাদিয়া (ইসরায়েল)
সম্মানরক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত আরবি ভাষার এই থ্রিলার সিরিজটি পরিচালনা করেছেন শ্যাডি স্রুর। পরিবারের হাতে হত্যাচেষ্টার শিকার এক তরুণীকে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে এবং নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে রক্ষা করার চেষ্টা করে। রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নারী নির্যাতন, ট্রমা ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কাহিনি।
৪. দ্য ফ্লজ (জার্মানি)
সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ সেরা আন্তর্জাতিক সিরিজের পুরস্কার জিতেছে এই জার্মান কমেডি। গল্পে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ ১১ জন সরকারি কর্মচারী ভুলবশত এলিট কর্মীদের জন্য তৈরি এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় অদ্ভুত সব ঘটনা—স্বয়ংক্রিয় বাস, হাসপাতালের বিশৃঙ্খলা এবং ফর্কলিফট বিপ্লব! পরিচালক আর্নে ফেল্ডহুসেন আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতাকে রূপ দিয়েছেন ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক এক অভিযানে।
৫. এলডোরাডো (ফ্রান্স-বেলজিয়াম)
বাস্তব করপোরেট প্রতারণার ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘এলডোরাডো’ দর্শকদের নিয়ে যায় ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সময়ে। এক বেলজিয়ান পদার্থবিদ ও এক স্বশিক্ষিত ইতালীয় প্রযুক্তিবিদ তেল কোম্পানি এলফ একিতেনকে বিশ্বাস করান যে তারা আকাশপথে তেলের মজুত খুঁজে বের করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। পরিচালক লুইজ লার্গ বাস্তব প্রতারণার ঘটনাকে রূপ দিয়েছেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ভেলকিবাজির রোমাঞ্চকর নাটকে।
এবারের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘অ্যানি’। সেরিয়েনক্যাম্প-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো একটি বাংলাদেশি সিরিজের জায়গা পাওয়া দেশের টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের কনটেন্ট যে এখন আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও আগ্রহের কেন্দ্রে আসছে, ‘অ্যানি’ তারই শক্তিশালী প্রমাণ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























