ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকতো না: ট্রাম্প

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকতো না এবং তার প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে ইসরায়েল আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকতো না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে ছাড়া ইসরায়েল থাকতো না, কারণ অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট এমন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিলেন না, যা আমি নিয়েছি।”

ফ্রান্সের এভিয়াঁয় জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো উল্লেখ করেও ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, লেবাননে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ইরান চুক্তির ঠিক আগে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা তিনি ‘পছন্দ করেননি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ‘দুই ঘণ্টা’ আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা আমি ‘পছন্দ করিনি’।

“আমি তাদের তা জানিয়ে দিয়েছি। আমি এটা পছন্দ করিনি, মোটেই না।”

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে এবং এতে ‘অনেক মানুষ নিহত হচ্ছে’।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। কারণ এসব ভবনে অনেক মানুষ থাকে, আর তাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।”

লেবাননে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছেন, যেন সিরিয়াকে এ বিষয়ে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তার ভাষায়, “সত্যি বলতে, আমি মনে করি তারা (সিরিয়া) এ কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে লেবাননে সামরিক অভিযানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকতো না: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৫:১৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকতো না এবং তার প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে ইসরায়েল আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকতো না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে ছাড়া ইসরায়েল থাকতো না, কারণ অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট এমন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিলেন না, যা আমি নিয়েছি।”

ফ্রান্সের এভিয়াঁয় জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো উল্লেখ করেও ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, লেবাননে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ইরান চুক্তির ঠিক আগে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা তিনি ‘পছন্দ করেননি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ‘দুই ঘণ্টা’ আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা আমি ‘পছন্দ করিনি’।

“আমি তাদের তা জানিয়ে দিয়েছি। আমি এটা পছন্দ করিনি, মোটেই না।”

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে এবং এতে ‘অনেক মানুষ নিহত হচ্ছে’।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। কারণ এসব ভবনে অনেক মানুষ থাকে, আর তাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।”

লেবাননে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছেন, যেন সিরিয়াকে এ বিষয়ে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তার ভাষায়, “সত্যি বলতে, আমি মনে করি তারা (সিরিয়া) এ কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে লেবাননে সামরিক অভিযানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।