আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে ডায়ালাইসিস করতে না পেরে এক কিডনি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম কামাল মিয়া (৫০)। স্বজনরা জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খিলগাঁও থানার আদর্শবাগ আবাসিক এলাকার বাসায় তিনি মারা যান।
কামাল মিয়ার স্ত্রী তানজিমা আফরিন বলেন, আমার স্বামী গত প্রায় দুই বছর ধরে এই হাসপাতালে সপ্তাহে দুই দিন (শনি ও মঙ্গল) ডায়ালাইসিস নিতেন। বিশেষ প্যাকেজের আওতায় এককালীন কিছু টাকা দিয়ে মাত্র আড়াইশ টাকায় প্রতিবার ডায়ালাইসিস করাতাম। মঙ্গলবারও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেবা পাই। আজ (শনিবার) স্বামীকে বাসায় রেখে খোঁজ নিতে যাই। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবা বন্ধ রয়েছে। তারা অন্য হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিতে গেলে বাসা থেকে ফোনে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাই। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী ডায়ালাইসিস পেলে মারা যেত না। ৬টা বাচ্চা মারা গেছে, এটাকে ইস্যু করে (হাসপাতালের সেবা বন্ধ থাকায়) আমার স্বামী মারা গেল। আরও দুইটা বাচ্চা (কামাল মিয়ার সন্তানরা) এতিম হলো।
এদিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের পর নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার দেখা যায়, হাসপাতালটিতে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। ভর্তি থাকা কিছু রোগীও চিকিৎসকের পরামর্শ ও ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। তবে এখনো কিছু রোগী বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটাই ফাঁকা ও নীরব দেখা যায়।
এদিন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, শুক্রবার মোট ৪১৬ জন রোগী ভর্তি থাকলেও শনিবার তা কমে ২৩৪ জনে নেমেছে। এছাড়া এনআইসিইউতে ভর্তি নবজাতক ৬০ জন থেকে কমে ৪৮ জনে, আইসিইউ ও এইচডিইউতে থাকা ২০ জন থেকে কমে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সিসিইউতে ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিবন্ধন বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে রোগী, স্বজন ও কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেকেই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন কর্মচারী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও কিছু কর্মচারীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এদিকে আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার (স্থানান্তর) করা রোগীকে তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের : শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কারও কোনো দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়। জামায়াত আমির ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, তারই লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতি জনগণেরই হলো।
শফিকুর রহমান আরও লেখেন, আদ্-দ্বীন একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এখানে সম্ভবত ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও চালু রয়েছে। এখন তারা যাবেন কোথায়? শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















