ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তিন মাস পরপর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রকাশের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তা জনসাধারণের জন্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। দলটি বলেছে, এতে বাজেট বাস্তবায়নের মান ও পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিও শক্তিশালী হবে।

রোববার রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও তথ্য প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ করার প্রবণতা কমবে।

গণসংহতি আন্দোলনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে।

তবে দলটি সতর্ক করে বলেছে, বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে। এতে ‘ক্রাউডিং-আউট’ প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করা হলেও গবেষণা, উদ্ভাবন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রতি বছর এডিপি বাস্তবায়নে প্রথম নয় মাস ধীরগতি এবং শেষ তিন মাসে দ্রুত ব্যয়ের প্রবণতা উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে গণসংহতি আন্দোলন। দলটি মনে করে, বাজেটের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার ওপর। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

তিন মাস পরপর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রকাশের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের

আপডেট সময় ০৬:২৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তা জনসাধারণের জন্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। দলটি বলেছে, এতে বাজেট বাস্তবায়নের মান ও পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিও শক্তিশালী হবে।

রোববার রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও তথ্য প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ করার প্রবণতা কমবে।

গণসংহতি আন্দোলনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে।

তবে দলটি সতর্ক করে বলেছে, বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে। এতে ‘ক্রাউডিং-আউট’ প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করা হলেও গবেষণা, উদ্ভাবন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রতি বছর এডিপি বাস্তবায়নে প্রথম নয় মাস ধীরগতি এবং শেষ তিন মাসে দ্রুত ব্যয়ের প্রবণতা উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে গণসংহতি আন্দোলন। দলটি মনে করে, বাজেটের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার ওপর। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।