আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যানমূখী ও ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপদান ও রপ্তানিকারক উদোক্তাদের সংগঠন–বিজিএমইএ। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দূরদর্শী প্রয়াসের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক প্রতিক্রিয়ায় আজ শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক বলে বিজিএমইএ মনে করে।
বিজিএমইএ এর মতে, এবারের বাজেটে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের সুবিধার্থে কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা অন্তত ৫ বছর বজায় রাখার পরিকল্পনা এবং এসআরও নির্ভরতা কমিয়ে ‘রিস্ক বেইজড অডিট’ চালু করার সিদ্ধান্ত দেশের শিল্পায়নে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস জোগাবে। নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার বর্তমানের ১০% হতে হ্রাস করে ৫% করা হয়েছে।
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদ্যোগ ব্যবসা পরিচালনার সময় ও ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনবে। এছাড়াও, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, অর্থ প্রত্যাবাসন সহজীকরণ, বিদেশী বিশেষজ্ঞদের জন্য ৭ দিনের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট প্রদানের বিধান ইত্যাদি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ০% কর হার, সৌরবিদ্যুৎ বিলে ব্যবহারকারীদের জন্য ৫% কর রেয়াত এবং সৌর খাতের উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক-কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাবটি পরিবেশবান্ধব টেকসই শিল্পায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে রিসাইকেল্ড পণ্যের করহার ৩% থেকে কমিয়ে ১% করা এবং ইটিপি রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে বিজিএমইএ স্বাগত জানায়।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে ১০% সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক হতে নন-বন্ডেড প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহের অনুমোদন এবং প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্নের পরিবর্তে ত্রৈমাসিক রিটার্ন দাখিলের বিধান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে। পরিবেশ বান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনকারী শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান, দেশে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আগামি ৩০ জুন, ২০৩০ পর্যন্ত উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধকল্পে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে ১০% সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে ৫০ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত করা অত্যন্ত জনকল্যাণমুখী একটি পদক্ষেপ। এছাড়াও, ফার্মাসিউটিক্যালস, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স’সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে শিল্প ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের উপরোক্ত সংস্কারমুখী ঘোষণাগুলো শিল্পের জন্য সহায়ক হবে বলে বিজিএমইএ মনে করে। তবে দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা রক্ষায় সংগঠনটি মনে করে শিল্পে কিছু নীতিগত সহায়তা প্রদান করা জরুরি, যেহেতু শিল্পটি বর্তমানে সংকটে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ উৎসে কর হার পূর্বের ন্যায় ১% অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সংকট বিবেচনায় পোশাক রপ্তানির বিপরীতে এই হার শুন্য ৬৫% নির্ধারণ এবং তা সরকারের ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি নীতির আলোকে আগামী ৫ বছরের জন্য স্থিতিশীল করার দাবি জানাচ্ছে। বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণরূপে মওকুফ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১% দ্বৈত উৎসে করের অবসান এবং ভ্যাট অব্যাহতি পদ্ধতি আরও সহজ করা প্রয়োজন। ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক তৈরি পোশাক রপ্তানীর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে প্রস্তাবিত পিএসএফ ও পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিন আমদানির ওপর অতিরিক্ত ৫% আমদানী শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















