ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত ও ঋণনির্ভর: নাহিদ ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের বড় সমালোচনার জায়গাটা হচ্ছে এই বাজেটটাকে আমাদের মনে হয়েছে উচ্চভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে। এবারের বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, খেতে ভালো, কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনে বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটা উচ্চ ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এই বাজেটের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা তারা ব্যয় করবে। এই আয়টা তারা বলছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা তারা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যেটা আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষে এই প্রশাসন ও কর কাঠামোর পক্ষে সম্ভব না।

তিনি বলেন, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যেই রাজস্ব সেটা যদি আদায় করতে না পারে স্বাভাবিকভাবে ঘাটতি কিন্তু অনেক বাড়বে। সরকারকে তখন কী করতে হবে? ব্যাংকগুলো থেকে এবং বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে। এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আয় অর্জন করতে হলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৪২ শতাংশ হতে হবে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭.৩ শতাংশ। যদি আগামী অর্থবছরে সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড করা সম্ভব হয় তাও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। ফলে এই ঘাটতি সরকার কীভাবে মেটাবে?

তিনি আরও বলেন, সরকার খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেছে। বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। একইভাবে কিন্তু এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে এটাকে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে আরও ঋণ বাড়াবে।

বিরোধী দলের এই চিপ হুইপ বলেন, ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে। এটা বৈদেশিক ঋণ। আর হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় ১৬ গুণ বেড়েছে। ব্যাংক থেকে আরও যদি ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাতে যে চাপটা পড়বে, বেসরকারি খাতের থেকে তারা বিনিয়োগ পাবে না। তারা লোন পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

নাহিদ বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বললেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দেননি। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়নি। বরং ব্যাংকিং খাত কীভাবে তারা সংস্কার করবে, আমরা যেই নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকিং খাত দলীয়করণ, রাজনীতিকরণ দেখতেছি। ইসলামী ব্যাংক এটা আমাদের সামনে একটা বড় উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এখন আবারো এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের যেই নৈরাজ্যটা ছিল এবং আমানতকারীদের, গ্রাহকদের যে অনাস্থা, সে অনাস্থা কিন্তু নতুন করে আবার শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বাজেটে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়বে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাজেট বক্তব্য শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবে না। অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কার থেকে আলাদা নয়, কিন্তু বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত ও ঋণনির্ভর: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৩:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের বড় সমালোচনার জায়গাটা হচ্ছে এই বাজেটটাকে আমাদের মনে হয়েছে উচ্চভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে। এবারের বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, খেতে ভালো, কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনে বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটা উচ্চ ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এই বাজেটের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা তারা ব্যয় করবে। এই আয়টা তারা বলছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা তারা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যেটা আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষে এই প্রশাসন ও কর কাঠামোর পক্ষে সম্ভব না।

তিনি বলেন, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যেই রাজস্ব সেটা যদি আদায় করতে না পারে স্বাভাবিকভাবে ঘাটতি কিন্তু অনেক বাড়বে। সরকারকে তখন কী করতে হবে? ব্যাংকগুলো থেকে এবং বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে। এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আয় অর্জন করতে হলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৪২ শতাংশ হতে হবে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭.৩ শতাংশ। যদি আগামী অর্থবছরে সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড করা সম্ভব হয় তাও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। ফলে এই ঘাটতি সরকার কীভাবে মেটাবে?

তিনি আরও বলেন, সরকার খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেছে। বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। একইভাবে কিন্তু এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে এটাকে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে আরও ঋণ বাড়াবে।

বিরোধী দলের এই চিপ হুইপ বলেন, ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে। এটা বৈদেশিক ঋণ। আর হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় ১৬ গুণ বেড়েছে। ব্যাংক থেকে আরও যদি ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাতে যে চাপটা পড়বে, বেসরকারি খাতের থেকে তারা বিনিয়োগ পাবে না। তারা লোন পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

নাহিদ বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বললেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দেননি। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়নি। বরং ব্যাংকিং খাত কীভাবে তারা সংস্কার করবে, আমরা যেই নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকিং খাত দলীয়করণ, রাজনীতিকরণ দেখতেছি। ইসলামী ব্যাংক এটা আমাদের সামনে একটা বড় উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এখন আবারো এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের যেই নৈরাজ্যটা ছিল এবং আমানতকারীদের, গ্রাহকদের যে অনাস্থা, সে অনাস্থা কিন্তু নতুন করে আবার শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বাজেটে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়বে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাজেট বক্তব্য শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবে না। অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কার থেকে আলাদা নয়, কিন্তু বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে।