ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০

নাগরিকদের মাঝে সুঅভ্যাস বিস্তারে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামাচ্ছে ডিএসসিসি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরিতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’ (American Affordable Community Healthcare Initiative)-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় (৯ নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

বুধবার নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকায় পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘আঙিনা পরিষ্কার, শহর পরিষ্কার’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সমগ্র নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।

‘আছি বাংলাদেশ’র উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নগরবাসীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

মতিঝিল ৯ নং ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত হলে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান প্রশাসক।

কর্মসূচির মূল কার্যক্রম:

১০টি জোনে বিভক্ত : মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে বিভক্ত করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ : তারা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার : নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলাসহ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিক চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’র প্রতিনিধিরা, সিটি ইন্সপেক্টররা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

নাগরিকদের মাঝে সুঅভ্যাস বিস্তারে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামাচ্ছে ডিএসসিসি

আপডেট সময় ১১:২০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরিতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’ (American Affordable Community Healthcare Initiative)-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় (৯ নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

বুধবার নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকায় পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘আঙিনা পরিষ্কার, শহর পরিষ্কার’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সমগ্র নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।

‘আছি বাংলাদেশ’র উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নগরবাসীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

মতিঝিল ৯ নং ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত হলে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান প্রশাসক।

কর্মসূচির মূল কার্যক্রম:

১০টি জোনে বিভক্ত : মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে বিভক্ত করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ : তারা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার : নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলাসহ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিক চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’র প্রতিনিধিরা, সিটি ইন্সপেক্টররা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।