ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘সংলাপ ছাড়া বিকল্প কী’- যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হলে সংলাপের পথেই এগোতে হবে। তার মতে, বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার বিকল্প হিসেবে আলোচনার কোনও বিকল্প নেই।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বারবার এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমতিও সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় দেওয়া হয়েছিল।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা যদি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? যদি আমরা সংলাপে না বসি, তাহলে বিকল্প কী?”

তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই নেতা আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর শেষ পর্যায়ে তার নির্দেশ ছিল—‘যাও, সমস্যার সমাধান করো’।”

ইরানের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক এখনও গভীর অবিশ্বাস ও উত্তেজনায় আবদ্ধ। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে।

তেহরানের অভিযোগ, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননে হাজার হাজার হামলা পরিচালনা করেছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে ইরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির স্পষ্ট কোনও লক্ষণ এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। বরং দেশটির নেতৃত্ব মনে করছে, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির কারণে আলোচনার পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় এখনও কাটেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘সংলাপ ছাড়া বিকল্প কী’- যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হলে সংলাপের পথেই এগোতে হবে। তার মতে, বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার বিকল্প হিসেবে আলোচনার কোনও বিকল্প নেই।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বারবার এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমতিও সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় দেওয়া হয়েছিল।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা যদি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? যদি আমরা সংলাপে না বসি, তাহলে বিকল্প কী?”

তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই নেতা আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর শেষ পর্যায়ে তার নির্দেশ ছিল—‘যাও, সমস্যার সমাধান করো’।”

ইরানের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক এখনও গভীর অবিশ্বাস ও উত্তেজনায় আবদ্ধ। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে।

তেহরানের অভিযোগ, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননে হাজার হাজার হামলা পরিচালনা করেছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে ইরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির স্পষ্ট কোনও লক্ষণ এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। বরং দেশটির নেতৃত্ব মনে করছে, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আলোচনার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির কারণে আলোচনার পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় এখনও কাটেনি।