আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে কলঙ্ক আর উৎসব হাত ধরাধরি করে ছিল গতকাল শুক্রবার। পারিশ্রমিক না পেয়ে সকালে ম্যাচ বয়কট করেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। ডিপিএলে ক্রিকেটারদের ম্যাচ বয়কট করার ঘটনা এই প্রথম। এ নিয়ে ক্লাব ও ক্রিকেটারদের নিন্দামন্দ হলেও ক্লাব সংগঠকদের উৎসব বন্ধ থাকেনি। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ক্লাব কাউন্সিলররা ছিলেন উৎসবে মাতোয়ারা। প্রীতম হাসানের গান আর আমিন হান্নানের কৌতুকে ক্লাব কর্মকর্তাদের বিমোহিত করার দিনে প্রাপ্য সম্মানী না পাওয়ায় চৌচির হয়েছে একদল ক্রিকেটারের হৃদয়। এই দুটি ঘটনাই প্রকাশ করে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের চরম বৈপরীত্য।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন করে ক্ষমতার চেয়ারে বসেন ক্লাব কর্মকর্তারা। ক্রিকেটের সেবা করতে আসা এই সংগঠকদের হাতেই ঠকতে হয় ক্রিকেটারদের। ঠকানোর এই প্রতিযোগিতায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার পাওয়ার মতো। বছরের পর বছর ক্লাবটির বিরুদ্ধে বিসিবিতে নালিশ করেন ক্রিকেটাররা টাকা না পেয়ে। ম্যানেজার আমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িত সন্দেহের তালিকায় তাঁর নাম রেখেছে বিসিবির দুর্নীতিদমন বিভাগ। সব জেনে বুঝেও ব্রাদার্সের শীর্ষ কর্তারা লিগের দল গড়ার দায়িত্বে দেন তাঁকে।
এই দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সোহাগ গাজী জানান, ম্যানেজার আমিন খানের মাধ্যমেই চুক্তি করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমরা আমিন খানকে চিনি। তিনি বলেছিলেন, লিগ শুরুর আগে ২০ শতাংশ, শুরু হলে ৩০ শতাংশ, অষ্টম ম্যাচের দিন ৩০ শতাংশ আর শেষ ম্যাচে ২০ শতাংশ সম্মানী পরিশোধ করা হবে। প্রথম কিস্তির ২০ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে ঠিক মতোই। এরপর টাকা চাইলেই আমিন খান বলেছেন, তোমরা না খেললে আমার কিছু হবে না, ইশরাক হোসেনের দুর্নাম হবে। ক্লাব অবনমন হলে হবে, আমার কী।’ এই অভিযোগের বিষয়ে জানার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি আমিন খানকে।
ক্রিকেটারদের সম্মানী পরিশোধ না করেও ডিপিএলে ঠিকই টিকে থাকে ব্রাদার্স। বিসিবি থেকে অনুদানের টাকাও নেয় প্রতি বছর। এবার যেমন ২৫ লাখ টাকা পেয়েছে অনুদান হিসেবে। জার্সির মজুরি হিসেবে পেয়েছে দুই লাখ টাকা। ম্যাচ ভেন্যুতে যাতায়াত, দুপুরের খাবার সবই দিচ্ছে বিসিবি। এরপরও ব্রাদার্স ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ায় বিস্মিত ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) এক কর্মকর্তা, ‘বোর্ড যে ২৭ লাখ টাকা দিয়েছে সেই টাকা ক্রিকেটারদের দিলেই তো সমস্যা মিটে যেত। ব্রাদার্স যে মানের দল গড়ে খেলোয়াড়দের সম্মানী খুব বেশি হওয়ার কথা না।’
একই কথা বলছিলেন সোহাগ গাজী, ‘বেশির ভাগ খেলোয়াড় খুব কম টাকায় খেলে। সামান্য ওই টাকা না পেলে কতটা খারাপ লাগতে পারে ভেবে দেখেন একবার। রোদে পুড়ে টাকার জন্যই তো খেলে সবাই। আদিল বিন সিদ্দিক প্যাড ধার নিয়ে খেলে। শরিফুল ইসলামের (জুনিয়র) ভালো ব্যাট নেই। ছেলেগুলো পরিশ্রম করেও যখন নিজের হাত খরচের টাকাও পায় না তখন ম্যাচ খেলার ইচ্ছাটা মরে যায়।’
এ ব্যাপারে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ঈদের আগে থেকে কথা বলছি। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ভাইকে জানিয়েছি। তিনি ব্রাদার্সের প্রধান ইশরাক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ৩ জুনের মধ্যে সব ঠিক হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলেনি। আমরা ক্রিকেটারদের পাশে আছি।’
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট কর্মকর্তাদের সংগঠকের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুর কাছে এই অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি অফিসিয়ালি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ম্যাচ না খেললেও ক্রিকেটাররা মাঠে ছিলেন ঠিকই। গাজী জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত বিকেএসপিতে ছিলেন তারা। মাঠে উপস্থিত থেকেও ক্রিকেটাররা ম্যাচ না খেলায় বেলা ৯টা ২৯ মিনিটে ওয়াক ওভার ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী। অগ্রণী ব্যাংককে জয়ী ঘোষণা করায় ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রথম বিভাগে অবনমন হয়। লিগে ব্রাদার্সের বাকি দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জও ওয়াক ওভার পেয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















