ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হিজবুল্লাহর ওপর হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ‘৬০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল’ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘তবে বর্তমান পরিস্থিতির দাবি হলো হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া।’

হামলা আরও জোরদারের ঘোষণার পরপরই লেবাননজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখন ‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ লিপ্ত এবং তিনি সামরিক বাহিনীকে তাদের ওপর ‘চরম আঘাত’ হানার নির্দেশ দিয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হলেও বেশ কিছু এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। ইসরায়েলের এই নতুন হামলার পর রাজধানী বৈরুতেও হামলা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা মূলত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। ওই অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দাবি—সেখান থেকেই তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট ছোড়া হচ্ছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা বেকা উপত্যকাটি লেবাননের পূর্বাঞ্চলে, সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

ইসরায়েলের এই নতুন সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের চলমান শান্তি আলোচনায় শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে— লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। তবে ইসরায়েল সরকার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

লেবাননের সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ইসরায়েলের ভারী বোমাবর্ষণে লেবাননে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক চিকিৎসা কর্মী ও জরুরি সেবা কর্মী রয়েছেন।

ইসরায়েল প্রতিদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর লেবাননও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হিজবুল্লাহর ওপর হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ১১:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ‘৬০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল’ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘তবে বর্তমান পরিস্থিতির দাবি হলো হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া।’

হামলা আরও জোরদারের ঘোষণার পরপরই লেবাননজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখন ‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ লিপ্ত এবং তিনি সামরিক বাহিনীকে তাদের ওপর ‘চরম আঘাত’ হানার নির্দেশ দিয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হলেও বেশ কিছু এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। ইসরায়েলের এই নতুন হামলার পর রাজধানী বৈরুতেও হামলা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা মূলত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। ওই অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দাবি—সেখান থেকেই তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট ছোড়া হচ্ছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা বেকা উপত্যকাটি লেবাননের পূর্বাঞ্চলে, সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

ইসরায়েলের এই নতুন সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের চলমান শান্তি আলোচনায় শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে— লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। তবে ইসরায়েল সরকার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

লেবাননের সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ইসরায়েলের ভারী বোমাবর্ষণে লেবাননে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক চিকিৎসা কর্মী ও জরুরি সেবা কর্মী রয়েছেন।

ইসরায়েল প্রতিদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর লেবাননও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে।