ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মার্কিন চাপে জাতিসংঘ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র কূটনৈতিক চাপ ও হুমকির মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। মার্কিন প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের ভিসা বাতিল করার হুমকি দেওয়ার পর ফিলিস্তিন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল একটি আরব দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে যে, রিয়াদ মনসুর আগামী দুই বছর সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ফিলিস্তিনের জায়গায় এখন লেবাননের রাষ্ট্রদূত এ পদের জন্য লড়বেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মুখপাত্র লা নেইস কলিন্স ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ গোপন কূটনৈতিক সূত্র ধরে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জেরুজালেমে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর এই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রিয়াদ মনসুরের এ প্রার্থিতা গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করবে।

বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল যদি সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে, তবে এর জন্য আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করব।

সেখানে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, গত বছর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং আরও ৮০ জন শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এবারও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প মার্কিন প্রশাসনের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিলিস্তিনি মিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি লবিংয়ের মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের লড়াই থেকেও নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন রিয়াদ মনসুর। সে সময় ফিলিস্তিনি মিশনের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছিল, ‘ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতির’ কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং ১৬টি সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব পাশ হয়েছিল, যার মাধ্যমে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধিকার ও অংশগ্রহণ ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের যেকোনো আলোচ্যসূচিতে বক্তব্য রাখার এবং খসড়া প্রস্তাবে সংশোধনী আনার অধিকার পায়। পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশ ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে জোরালো ভোট দিয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আটকে রেখেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মার্কিন চাপে জাতিসংঘ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত

আপডেট সময় ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র কূটনৈতিক চাপ ও হুমকির মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। মার্কিন প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের ভিসা বাতিল করার হুমকি দেওয়ার পর ফিলিস্তিন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল একটি আরব দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে যে, রিয়াদ মনসুর আগামী দুই বছর সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ফিলিস্তিনের জায়গায় এখন লেবাননের রাষ্ট্রদূত এ পদের জন্য লড়বেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মুখপাত্র লা নেইস কলিন্স ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ গোপন কূটনৈতিক সূত্র ধরে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জেরুজালেমে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর এই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রিয়াদ মনসুরের এ প্রার্থিতা গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করবে।

বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল যদি সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে, তবে এর জন্য আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করব।

সেখানে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, গত বছর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং আরও ৮০ জন শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এবারও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প মার্কিন প্রশাসনের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিলিস্তিনি মিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি লবিংয়ের মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের লড়াই থেকেও নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন রিয়াদ মনসুর। সে সময় ফিলিস্তিনি মিশনের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছিল, ‘ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতির’ কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং ১৬টি সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব পাশ হয়েছিল, যার মাধ্যমে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধিকার ও অংশগ্রহণ ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের যেকোনো আলোচ্যসূচিতে বক্তব্য রাখার এবং খসড়া প্রস্তাবে সংশোধনী আনার অধিকার পায়। পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশ ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে জোরালো ভোট দিয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আটকে রেখেছে।