ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বোনের জানাজায় অংশ নিতে পারলেন না যুবক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মাদকসেবন মানবজীবন ও সমাজে বিস্তর প্রভাব ফেলে। এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ এবং তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ- সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবারে অশান্তি ও সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়। এমনকি পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের আপনজনের মৃত্যুতেও তার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারেন না অনেকে।

তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। বড় বোনের লাশ দেখার জন্য মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠান (৩০) নামে এক যুবককে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়; কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় জানাজায় অংশগ্রহণ ও কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।

পাঠান গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আকবর শেখের ছেলে।

গত ২ এপ্রিল মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে আটক করে দুই মাসের সাজা দিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠান।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পাঠানের বড়বোন মমতাজ বেগম ওরফে মমো বুধবার (২০ মে) সকালে পৌরসভার এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার নিজবাড়িতে মারা যান। পাঠানের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম শেখ কারাগারে বন্দি থাকা তার ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম পাঠানের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে বিকাল সাড়ে ৩টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।

মুক্তির আদেশ পেয়ে সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠানকে নিয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ায় তার বোন মমতাজ বেগমের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে তাকে কিছু সময় রাখার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সিরাজুল ইসলাম পাঠানকে নিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অনেকেই আফসোস করে বলেন, সর্বনাশা মাদকের নেশা পাঠানকে আজ তার বড় বোনের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগও দিল না। তবে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা ছিল বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু হাজতি সিরাজুল শেখের বোনের জানাজার সময় ছিল বিকাল সাড়ে ৫টায়। যে কারণে হাজতিকে শুধু লাশ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বোনের জানাজায় অংশ নিতে পারলেন না যুবক

আপডেট সময় ০৬:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মাদকসেবন মানবজীবন ও সমাজে বিস্তর প্রভাব ফেলে। এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ এবং তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ- সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবারে অশান্তি ও সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়। এমনকি পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের আপনজনের মৃত্যুতেও তার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারেন না অনেকে।

তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। বড় বোনের লাশ দেখার জন্য মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠান (৩০) নামে এক যুবককে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়; কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় জানাজায় অংশগ্রহণ ও কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।

পাঠান গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আকবর শেখের ছেলে।

গত ২ এপ্রিল মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে আটক করে দুই মাসের সাজা দিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠান।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পাঠানের বড়বোন মমতাজ বেগম ওরফে মমো বুধবার (২০ মে) সকালে পৌরসভার এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার নিজবাড়িতে মারা যান। পাঠানের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম শেখ কারাগারে বন্দি থাকা তার ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম পাঠানের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে বিকাল সাড়ে ৩টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।

মুক্তির আদেশ পেয়ে সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠানকে নিয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ায় তার বোন মমতাজ বেগমের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে তাকে কিছু সময় রাখার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সিরাজুল ইসলাম পাঠানকে নিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অনেকেই আফসোস করে বলেন, সর্বনাশা মাদকের নেশা পাঠানকে আজ তার বড় বোনের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগও দিল না। তবে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা ছিল বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু হাজতি সিরাজুল শেখের বোনের জানাজার সময় ছিল বিকাল সাড়ে ৫টায়। যে কারণে হাজতিকে শুধু লাশ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।