ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

কারখানা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি তালাবদ্ধ কারখানা থেকে জিল্লুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে পৌর এলাকার ভোগপাড়ায় কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে একটি কারখানার ভেতর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

জিল্লুর রহমান এই কারখানার মালিক। তিনি পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর গোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সপরিবারে কটিয়াদীতে বসবাস করে ব্যবসা করতেন তিনি।

শুক্রবার বিকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতের স্ত্রী বাড়িতে সংরক্ষিত চাবি নিয়ে কারখানা খুলে স্বামীর লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর থেকে কারখানাটির পিকআপ চালকের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ভোগপাড়া মহল্লায় কারখানা স্থাপন করে ওয়ান টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস তৈরি করতেন তিনি। তার কারখানায় দুজন নারী কর্মী আর একজন পিকআপ চালক ছিলেন। মালিক নিজেও কাজ করতেন। মাঝে মাঝে কাঁচামালের প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দু-একদিনের জন্য নিজেও যেতেন, পিকআপ চালককেও পাঠাতেন।

শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি কারখানার মালিক জিল্লুর। তারপর থেকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তার স্ত্রী। আজ সোমবার সকালে স্ত্রী অন্তরা ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের তালা খুলে ভিতরে গিয়ে স্বামীর রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

কারখানার দুই নারী কর্মী মদিনা ও শারমিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা কাজ করে চলে যাই। আমরা ছাড়াও পিকআপের একজন ড্রাইভার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তবে তার নাম পরিচয় আমরা জানি না। কাঁচামাল আনলে প্রতিষ্ঠানের মালিক আমাদেরকে ফোনে জানাতো। গত বৃহস্পতিবারের পর আর কোনো ফোন পাইনি। আমরাও আর কাজে যাইনি।

জিল্লুর রহমানের স্ত্রী অন্তরা বলেন, শুক্রবার সকালে নাস্তা খেয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। দুপুরে সর্বশেষ কথা হয়। পরে ফোনে কল গেলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেক খোঁজাখুজির পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেখি রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে রয়েছে।

কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের মুখে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পিকআপ চালকের পরিচয় বা সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। চারদিন যাবত নিখোঁজ থাকার বিষয়টিও থানাকে অবগত করেনি পরিবারের কেউ। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী ও কারখানার দুজন নারী কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

কারখানা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি তালাবদ্ধ কারখানা থেকে জিল্লুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে পৌর এলাকার ভোগপাড়ায় কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে একটি কারখানার ভেতর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

জিল্লুর রহমান এই কারখানার মালিক। তিনি পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর গোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সপরিবারে কটিয়াদীতে বসবাস করে ব্যবসা করতেন তিনি।

শুক্রবার বিকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতের স্ত্রী বাড়িতে সংরক্ষিত চাবি নিয়ে কারখানা খুলে স্বামীর লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর থেকে কারখানাটির পিকআপ চালকের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ভোগপাড়া মহল্লায় কারখানা স্থাপন করে ওয়ান টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস তৈরি করতেন তিনি। তার কারখানায় দুজন নারী কর্মী আর একজন পিকআপ চালক ছিলেন। মালিক নিজেও কাজ করতেন। মাঝে মাঝে কাঁচামালের প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দু-একদিনের জন্য নিজেও যেতেন, পিকআপ চালককেও পাঠাতেন।

শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি কারখানার মালিক জিল্লুর। তারপর থেকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তার স্ত্রী। আজ সোমবার সকালে স্ত্রী অন্তরা ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের তালা খুলে ভিতরে গিয়ে স্বামীর রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

কারখানার দুই নারী কর্মী মদিনা ও শারমিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা কাজ করে চলে যাই। আমরা ছাড়াও পিকআপের একজন ড্রাইভার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তবে তার নাম পরিচয় আমরা জানি না। কাঁচামাল আনলে প্রতিষ্ঠানের মালিক আমাদেরকে ফোনে জানাতো। গত বৃহস্পতিবারের পর আর কোনো ফোন পাইনি। আমরাও আর কাজে যাইনি।

জিল্লুর রহমানের স্ত্রী অন্তরা বলেন, শুক্রবার সকালে নাস্তা খেয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। দুপুরে সর্বশেষ কথা হয়। পরে ফোনে কল গেলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেক খোঁজাখুজির পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেখি রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে রয়েছে।

কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের মুখে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পিকআপ চালকের পরিচয় বা সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। চারদিন যাবত নিখোঁজ থাকার বিষয়টিও থানাকে অবগত করেনি পরিবারের কেউ। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী ও কারখানার দুজন নারী কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।