ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জমি লিজ দেবে সরকার: আশিক চৌধুরী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারি জমিগুলো ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন বেজা, বিডা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তবে বাংলাদেশে সময়ে সময়ে অনেক নীতি তৈরি করা হলেও তা বাস্তবায়নের পথ অনেক কঠিন করে রাখা হয় বলেও মনে করেন তিনি।

রোববার ‘বিদ্যুৎ খাত থেকে আসা অর্থনৈতিক বোঝা সংকট উত্তরণের নীতি পরামর্শ’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আমাদের বাসার ছাদেও একটি সৌর প্যানেল ছিল, কিন্তু কাজ করে না। কেউ সেটা নিয়ে আগ্রহী না।’

তিনি আরও বলেন, সৌর বিদ্যুতে রুপটপ সোলারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং পলিসি করা হলেও সেখানে হিসাবনিকাশ অনেক জটিল। এক ভদ্রলোক নেট মিটার বসাতে দেড় বছর চেষ্টা করেছেন। এভাবেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল করে রাখা হয়। হওয়া উচিত ছিল যে, বাড়ির মালিকরা হটলাইনে ফোন দিয়ে জানাবেন- তারা সৌর বিদ্যুৎ বসাতে চান। ঠিকাদার এসে বসিয়ে দিয়ে যাবে। দুই পক্ষই নিয়ম অনুযায়ী বেনিফিট পাবে।

সেমিনারে সরকারি জমিগুলো ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানান আশিক চৌধুরী। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার পক্ষে মত রেখে তিনি বলেন, যাদের সামর্থ্য নেই এমন মানুষজনেরই ভর্তুকি পাওয়া উচিত। যে মাত্রার ভর্তুকি চলছে, তা পিডিবির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বড় বোঝা যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, এখন চাইলেই সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই ক্যাপাসিটি চার্জ থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা সক্ষমতার বাইরে।’ ইরান যুদ্ধ ও তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে সৌর বিদ্যুতকেই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প বলে উল্লেখ করেন বিডার চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সোলারে যে খরচ সবচেয়ে কম এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক রেজওয়ান খান বলেন, তরল জ্বালানি থেকে এখন এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা খরচ হয়। একইভাবে এলএনজি দিয়ে ১৬ থেকে ১৭ টাকা খরচ হয়। সেখানে বড় মাপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোলারে পাঁচ থেকে ছয় টাকা খরচ হচ্ছে; এতে বোঝা যায় সৌর বিদ্যুতের মতো বিকল্প উপায়গুলো কাজে লাগানো প্রয়োজন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জমি লিজ দেবে সরকার: আশিক চৌধুরী

আপডেট সময় ১১:১৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারি জমিগুলো ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন বেজা, বিডা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তবে বাংলাদেশে সময়ে সময়ে অনেক নীতি তৈরি করা হলেও তা বাস্তবায়নের পথ অনেক কঠিন করে রাখা হয় বলেও মনে করেন তিনি।

রোববার ‘বিদ্যুৎ খাত থেকে আসা অর্থনৈতিক বোঝা সংকট উত্তরণের নীতি পরামর্শ’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আমাদের বাসার ছাদেও একটি সৌর প্যানেল ছিল, কিন্তু কাজ করে না। কেউ সেটা নিয়ে আগ্রহী না।’

তিনি আরও বলেন, সৌর বিদ্যুতে রুপটপ সোলারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং পলিসি করা হলেও সেখানে হিসাবনিকাশ অনেক জটিল। এক ভদ্রলোক নেট মিটার বসাতে দেড় বছর চেষ্টা করেছেন। এভাবেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল করে রাখা হয়। হওয়া উচিত ছিল যে, বাড়ির মালিকরা হটলাইনে ফোন দিয়ে জানাবেন- তারা সৌর বিদ্যুৎ বসাতে চান। ঠিকাদার এসে বসিয়ে দিয়ে যাবে। দুই পক্ষই নিয়ম অনুযায়ী বেনিফিট পাবে।

সেমিনারে সরকারি জমিগুলো ১৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানান আশিক চৌধুরী। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার পক্ষে মত রেখে তিনি বলেন, যাদের সামর্থ্য নেই এমন মানুষজনেরই ভর্তুকি পাওয়া উচিত। যে মাত্রার ভর্তুকি চলছে, তা পিডিবির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বড় বোঝা যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, এখন চাইলেই সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই ক্যাপাসিটি চার্জ থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা সক্ষমতার বাইরে।’ ইরান যুদ্ধ ও তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে সৌর বিদ্যুতকেই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প বলে উল্লেখ করেন বিডার চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সোলারে যে খরচ সবচেয়ে কম এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক রেজওয়ান খান বলেন, তরল জ্বালানি থেকে এখন এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা খরচ হয়। একইভাবে এলএনজি দিয়ে ১৬ থেকে ১৭ টাকা খরচ হয়। সেখানে বড় মাপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোলারে পাঁচ থেকে ছয় টাকা খরচ হচ্ছে; এতে বোঝা যায় সৌর বিদ্যুতের মতো বিকল্প উপায়গুলো কাজে লাগানো প্রয়োজন।