ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাজী সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন অন্য বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করুন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আদিব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে সংসদ হবে মাইলফলক : মঈন খান ঢাবি মসজিদে সাদিক কায়েমের বিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ বসতঘর পুড়ে ছাই একটি মহল জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে’:মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মৃত ঘোষণা, কবর খোঁড়ার পর নড়েচড়ে উঠলেন যুবক মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ৩০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার ড্রেন ও খালে ময়লা না ফেলার আহ্বান ডিএনসিসি প্রশাসকের

আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আসন্ন বাজেটে এ খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। যা গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ০.৬৭ শতাংশ।

বুধবার দুপুরে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতুল বরাদ্দের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে থাকবে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম। প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে উপজেলা কিংবা টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হবে।

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং ২০২০ সালের পর হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার টিকাদান কভারেজের তথ্য বিকৃত করায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০ উপজেলা ও ১৩ পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি বলেন, ডিজিএইচএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, এমনকি নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুরাও যেন ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজী সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন

আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে

আপডেট সময় ০৪:১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আসন্ন বাজেটে এ খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। যা গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ০.৬৭ শতাংশ।

বুধবার দুপুরে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতুল বরাদ্দের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে থাকবে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম। প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে উপজেলা কিংবা টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হবে।

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং ২০২০ সালের পর হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার টিকাদান কভারেজের তথ্য বিকৃত করায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০ উপজেলা ও ১৩ পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি বলেন, ডিজিএইচএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, এমনকি নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুরাও যেন ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করে।