ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মৃত ঘোষণা, কবর খোঁড়ার পর নড়েচড়ে উঠলেন যুবক মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ৩০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার ড্রেন ও খালে ময়লা না ফেলার আহ্বান ডিএনসিসি প্রশাসকের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি : মাহদী আমিন ‘সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা নিয়ে আমি ভাবি না’:ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে দর্জির মেয়ের ইতিহাস, এমবিবিএস-এ ১৭টি স্বর্ণপদক জয় আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন এনসিপিকে বলব, দ্রুত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ডোপ টেস্ট করুন: রাশেদ খাঁন

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে এটিই হচ্ছে সরকারের বড় উদ্যোগ।

সভাসূত্রে জানা যায়, আজ মোট ১৬টি প্রকল্প সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

একনেক সভায় উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী- এই পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম ধাপে ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতী নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে।

অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯টি জেলায় এর প্রভাব পড়বে। জেলাগুলো হল: খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা।

নির্বাচনে বিএনপি সরকারের অন্যতম ইশতেহার ছিল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ। সরকার গঠনের পর অবশেষে তা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত ঘোষণা, কবর খোঁড়ার পর নড়েচড়ে উঠলেন যুবক

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

আপডেট সময় ০৩:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে এটিই হচ্ছে সরকারের বড় উদ্যোগ।

সভাসূত্রে জানা যায়, আজ মোট ১৬টি প্রকল্প সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

একনেক সভায় উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী- এই পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম ধাপে ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতী নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে।

অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯টি জেলায় এর প্রভাব পড়বে। জেলাগুলো হল: খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা।

নির্বাচনে বিএনপি সরকারের অন্যতম ইশতেহার ছিল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ। সরকার গঠনের পর অবশেষে তা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।