ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো এক বাবা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তৎকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করার পর থেকেই উসাইমং মারমা নামের ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি এবং অজ্ঞাত নম্বর থেকে আসা হুমকির মুখে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২১ জুলাই, যখন উত্তরার দিয়া বাড়িতে মাইলস্টোন স্কুলের ক্যাম্পাসে একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে অধিকাংশ ছিল শিক্ষার্থী, যার মধ্যে উসাইমং মার্মার ছেলে উক্য চিং মারমাও ছিল। দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও ১০ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়িত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় গত ৭ মে ঢাকার আদালতে ড. ইউনূস ও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন উসাইমং মারমা। তবে আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালতে যাওয়ার পরদিন থেকেই উসাইমং মারমার জীবনে নেমে আসে দুর্যোগ। তার অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে ২০ থেকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য তার কর্মস্থল, গ্রামের বাড়ি এবং আত্মীয়-স্বজনের বাসায় তাকে খুঁজতে হানা দেয়। প্রতিবেশীদের কাছে তার নামে পরোয়ানা থাকার দাবি করা হলেও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা তার তথ্য সংগ্রহ করছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন, যা তাকে চরম আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এই বাবা আক্ষেপ করে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ছেলের মৃত্যুর বিচার চাওয়া এবং প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি করা কি তার অপরাধ ছিল? একের পর এক হুমকি এবং প্রশাসনের তৎপরতায় তিনি এখন ফেরারি জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে যাতে তিনি পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আপডেট সময় ১২:২০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো এক বাবা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তৎকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করার পর থেকেই উসাইমং মারমা নামের ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি এবং অজ্ঞাত নম্বর থেকে আসা হুমকির মুখে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২১ জুলাই, যখন উত্তরার দিয়া বাড়িতে মাইলস্টোন স্কুলের ক্যাম্পাসে একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে অধিকাংশ ছিল শিক্ষার্থী, যার মধ্যে উসাইমং মার্মার ছেলে উক্য চিং মারমাও ছিল। দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও ১০ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়িত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় গত ৭ মে ঢাকার আদালতে ড. ইউনূস ও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন উসাইমং মারমা। তবে আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালতে যাওয়ার পরদিন থেকেই উসাইমং মারমার জীবনে নেমে আসে দুর্যোগ। তার অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে ২০ থেকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য তার কর্মস্থল, গ্রামের বাড়ি এবং আত্মীয়-স্বজনের বাসায় তাকে খুঁজতে হানা দেয়। প্রতিবেশীদের কাছে তার নামে পরোয়ানা থাকার দাবি করা হলেও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা তার তথ্য সংগ্রহ করছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন, যা তাকে চরম আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এই বাবা আক্ষেপ করে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ছেলের মৃত্যুর বিচার চাওয়া এবং প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি করা কি তার অপরাধ ছিল? একের পর এক হুমকি এবং প্রশাসনের তৎপরতায় তিনি এখন ফেরারি জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে যাতে তিনি পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।