ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও নারী অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক বলে মত দেন বিচারকরা।

রায়ে আরও বলা হয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ আইনগতভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আদালত এ নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালত নিজেই তদারকি করতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১১:৪০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও নারী অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক বলে মত দেন বিচারকরা।

রায়ে আরও বলা হয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ আইনগতভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আদালত এ নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালত নিজেই তদারকি করতে পারবেন।