ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

গার্মেন্টস ঝুট পুনর্ব্যবহার: বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য বা ‘ঝুট’ পুনর্ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দুর্বল নীতিমালা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ। গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে গার্মেন্টস শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই উদ্বেগের কথা জানান।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার অভাব। একইসঙ্গে বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও দেশের কারখানাগুলোতে এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো এখন পণ্যের উৎস সন্ধানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সেমিনারে কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গ্রিন ডিল’ এবং ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ (ডিপিপি) উদ্যোগের ফলে এখন থেকে প্রতিটি পণ্যের স্বচ্ছতা ও পরিবেশগত মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এটি আমদানিকারকদের টেকসই পদ্ধতিতে তৈরি পোশাক কিনতে বাধ্য করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক টেক্সটাইল বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ টনে। এর একটি বড় অংশ বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল বর্জ্য সম্পদকে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। এতে কারখানার অগ্নিঝুঁকি কমার পাশাপাশি একটি নিরাপদ শিল্প ভিত্তি তৈরি হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে শতভাগ সুতি বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে রিসাইক্লিং করার ক্ষমতা রাখলেও, মিশ্র তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) রিসাইক্লিংয়ে অনেক পিছিয়ে। রাসায়নিকভাবে এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি না থাকায় মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তুলা নির্ভরতা কমিয়ে রিসাইকেল করা উপকরণের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বাড়বে।

বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি বিদিয়া অমৃত খান এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, বাংলাদেশের পোশাক বর্জ্যের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই একই বর্জ্য থেকে তৈরি সুতা চড়া দামে আবার বাংলাদেশে আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত রিসাইক্লিং সুবিধা থাকলে এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সেমিনারে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ইইউ-এর সাথে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই উত্তরণকালীন সময়ে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সার্কুলার ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই।

ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশ যাতে এই রূপান্তর সফলভাবে করতে পারে সেজন্য ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ৬০ মিলিয়ন ইউরো ঋণের চুক্তি করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭টি কারখানায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে। তবে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা ছাড়া এই উদ্যোগগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে না। সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অন্যান্য অতিথিরা একমত হন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে টেক্সটাইল বর্জ্যই হতে পারে বাংলাদেশের তুরুপের তাস। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই ৮ বিলিয়ন ডলারের খাতটি বাংলাদেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধীরা

গার্মেন্টস ঝুট পুনর্ব্যবহার: বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১১:১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য বা ‘ঝুট’ পুনর্ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দুর্বল নীতিমালা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ। গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে গার্মেন্টস শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই উদ্বেগের কথা জানান।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার অভাব। একইসঙ্গে বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও দেশের কারখানাগুলোতে এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো এখন পণ্যের উৎস সন্ধানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সেমিনারে কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গ্রিন ডিল’ এবং ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ (ডিপিপি) উদ্যোগের ফলে এখন থেকে প্রতিটি পণ্যের স্বচ্ছতা ও পরিবেশগত মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এটি আমদানিকারকদের টেকসই পদ্ধতিতে তৈরি পোশাক কিনতে বাধ্য করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক টেক্সটাইল বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ টনে। এর একটি বড় অংশ বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল বর্জ্য সম্পদকে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। এতে কারখানার অগ্নিঝুঁকি কমার পাশাপাশি একটি নিরাপদ শিল্প ভিত্তি তৈরি হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে শতভাগ সুতি বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে রিসাইক্লিং করার ক্ষমতা রাখলেও, মিশ্র তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) রিসাইক্লিংয়ে অনেক পিছিয়ে। রাসায়নিকভাবে এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি না থাকায় মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তুলা নির্ভরতা কমিয়ে রিসাইকেল করা উপকরণের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বাড়বে।

বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি বিদিয়া অমৃত খান এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, বাংলাদেশের পোশাক বর্জ্যের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই একই বর্জ্য থেকে তৈরি সুতা চড়া দামে আবার বাংলাদেশে আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত রিসাইক্লিং সুবিধা থাকলে এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সেমিনারে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ইইউ-এর সাথে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই উত্তরণকালীন সময়ে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সার্কুলার ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই।

ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশ যাতে এই রূপান্তর সফলভাবে করতে পারে সেজন্য ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ৬০ মিলিয়ন ইউরো ঋণের চুক্তি করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭টি কারখানায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে। তবে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা ছাড়া এই উদ্যোগগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে না। সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অন্যান্য অতিথিরা একমত হন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে টেক্সটাইল বর্জ্যই হতে পারে বাংলাদেশের তুরুপের তাস। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই ৮ বিলিয়ন ডলারের খাতটি বাংলাদেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।