ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

তিনি বলেছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর ‘লুটপাট করে খাওয়া যাবে না’ এবং ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেছেন, সেই উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।

তিনি আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা বা জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তি দান করে গেছেন, সেই লক্ষ্য যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ও যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চুরি বা অন্যায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট। সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। অথচ এসব দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা আশপাশের বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিনি আরও বলেন, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে নতুনভাবে দোকানটি ভাড়া দেওয়া হলে মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে যথাযথ আয় আদায় করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোনো ধরনের লুটপাট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসকদের ইতোমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ধর্মমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

তিনি বলেছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর ‘লুটপাট করে খাওয়া যাবে না’ এবং ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেছেন, সেই উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।

তিনি আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা বা জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তি দান করে গেছেন, সেই লক্ষ্য যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ও যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চুরি বা অন্যায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট। সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। অথচ এসব দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা আশপাশের বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিনি আরও বলেন, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে নতুনভাবে দোকানটি ভাড়া দেওয়া হলে মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে যথাযথ আয় আদায় করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোনো ধরনের লুটপাট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসকদের ইতোমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ধর্মমন্ত্রী।