ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘নাহিদ-সারজিসরা জুলাইকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে’:শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পুঁজি করে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমরা নিজেদের আখের গুছিয়ে বড় নেতা এবং এমপি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ আয়োজিত

‘শহীদদের হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ও আহতদের পূনর্বাসনের’ দাবিতে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা মো. আবুল হাসান অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের কাছে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, তারা আমাদের কোনো দাবিই মানেননি। তারা মাত্র ৫-৭ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছেন এবং শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা জুলাইকে নিজের বাপ-দাদার সম্পদ হিসেবে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো তা হতে দেবে না।

সভায় শহীদ ইমাম হোসেন তাহেরের ভাই ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম তুহিন বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার আমাদের শুধু ব্যবহার করেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় শহীদ ও আহতদের জন্য ‘সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে। তিনি আগামী ৫ই আগস্টের আগে শহীদদের গেজেট প্রকাশ, কবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। সরকার ইতোমধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসে সারা দেশের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে নিয়ে একটি বিশাল সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঈমন নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, যারা শরীরের হাজারো বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি, আমাদের জীবন আজ ‘জীবন্ত মৃত’ মানুষের মতো। বিগত ১৫ মাস শাহবাগে আমাদের অধিকারের কথা কেউ শোনেনি এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসনের জোর দাবি জানানো হয়। সভায় শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী মো. নাবিল হোসেনসহ আরও অনেক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘নাহিদ-সারজিসরা জুলাইকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে’:শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা

আপডেট সময় ১০:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পুঁজি করে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমরা নিজেদের আখের গুছিয়ে বড় নেতা এবং এমপি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির নেতারা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ আয়োজিত

‘শহীদদের হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ও আহতদের পূনর্বাসনের’ দাবিতে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা মো. আবুল হাসান অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের কাছে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, তারা আমাদের কোনো দাবিই মানেননি। তারা মাত্র ৫-৭ জন শহীদ পরিবারের সদস্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছেন এবং শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা জুলাইকে নিজের বাপ-দাদার সম্পদ হিসেবে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, কিন্তু শহীদ পরিবারগুলো তা হতে দেবে না।

সভায় শহীদ ইমাম হোসেন তাহেরের ভাই ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম তুহিন বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার আমাদের শুধু ব্যবহার করেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় শহীদ ও আহতদের জন্য ‘সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে। তিনি আগামী ৫ই আগস্টের আগে শহীদদের গেজেট প্রকাশ, কবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। সরকার ইতোমধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসে সারা দেশের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে নিয়ে একটি বিশাল সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঈমন নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, যারা শরীরের হাজারো বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি, আমাদের জীবন আজ ‘জীবন্ত মৃত’ মানুষের মতো। বিগত ১৫ মাস শাহবাগে আমাদের অধিকারের কথা কেউ শোনেনি এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই জাদুঘর সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসনের জোর দাবি জানানো হয়। সভায় শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী মো. নাবিল হোসেনসহ আরও অনেক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।