ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সর্বশেষ সেশনের সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্যানালিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্যরা। সেশনটি সঞ্চালনা করবেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্তের কথা বলে, কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যে কোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্টে অনেক কথা এসেছে। এটি আপনারা যে কোনো সিদ্ধান্তে দেখতে পাবেন। সংসদে অনেক সিদ্ধান্তে আমাদের বিরোধিতা আছে। অনেকের ভিন্নমত আছে। তার এই ভিন্নমত লেখা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে যায়। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে। জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর হয়, সেদিন আলাদা করে নোট যোগ করা হয়েছে সবগুলোতে। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে তো আর সনদের কার্যকারিতা থাকে না। সে জায়গা থেকে গণভোট এসেছে। জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিজ্ঞা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমরা এখনও কথা বলতে শুনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই হোঁচট খেলে মানুষকে বারবার রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা সেটা চাই না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সর্বশেষ সেশনের সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্যানালিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্যরা। সেশনটি সঞ্চালনা করবেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্তের কথা বলে, কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যে কোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্টে অনেক কথা এসেছে। এটি আপনারা যে কোনো সিদ্ধান্তে দেখতে পাবেন। সংসদে অনেক সিদ্ধান্তে আমাদের বিরোধিতা আছে। অনেকের ভিন্নমত আছে। তার এই ভিন্নমত লেখা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে যায়। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে। জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর হয়, সেদিন আলাদা করে নোট যোগ করা হয়েছে সবগুলোতে। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে তো আর সনদের কার্যকারিতা থাকে না। সে জায়গা থেকে গণভোট এসেছে। জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিজ্ঞা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমরা এখনও কথা বলতে শুনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই হোঁচট খেলে মানুষকে বারবার রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা সেটা চাই না।