ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সৌদিকে জানাল ইরান, আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তেহরান সরাসরি সৌদি আরবকে এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘গুড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা করছে।

আঞ্চলিক আধিপত্য এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে, তখন তেহরান একে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। ওমান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরান এই বার্তা পাঠিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যদি তাদের স্বার্থে কোনো আঘাত আসে, তবে তার চরম মূল্য দিতে হবে আবুধাবিকে। বিশেষ করে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করা এবং পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমিরাত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। শারজাহ ও দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা এই উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ।

ইরান মনে করছে, আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানবিরোধী তৎপরতায় সহায়তা করছে। এর প্রেক্ষিতেই সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, আমিরাত যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে তেহরান দেশটিকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার পথে হাঁটবে।

এদিকে, এই পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে আগে থেকেই দেশ দুটির মধ্যে মতভেদ ছিল, যা এখন ইরান কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সৌদি আরব যখন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিকভাবে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, তখন আমিরাত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরাসরি ইরানকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সৌদিকে জানাল ইরান, আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে

আপডেট সময় ১০:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তেহরান সরাসরি সৌদি আরবকে এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘গুড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা করছে।

আঞ্চলিক আধিপত্য এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে, তখন তেহরান একে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। ওমান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরান এই বার্তা পাঠিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যদি তাদের স্বার্থে কোনো আঘাত আসে, তবে তার চরম মূল্য দিতে হবে আবুধাবিকে। বিশেষ করে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করা এবং পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমিরাত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। শারজাহ ও দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা এই উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ।

ইরান মনে করছে, আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানবিরোধী তৎপরতায় সহায়তা করছে। এর প্রেক্ষিতেই সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, আমিরাত যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে তেহরান দেশটিকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার পথে হাঁটবে।

এদিকে, এই পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে আগে থেকেই দেশ দুটির মধ্যে মতভেদ ছিল, যা এখন ইরান কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সৌদি আরব যখন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিকভাবে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, তখন আমিরাত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরাসরি ইরানকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।