ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

ইরানি বন্দর অবরোধে মার্কিন নৌবাহিনী ‘জলদস্যুর মতো’ কাজ করছে: ট্রাম্প

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানি বন্দর ঘিরে চলমান অবরোধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী ‘জলদস্যুর মতো’ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একটি সামরিক অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা জাহাজের ওপর নেমে পড়ি এবং সেটি দখলে নিই। আমরা কার্গো নিয়েছি, তেল নিয়েছি- এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা।”

এ সময় সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। এর মধ্যেই তিনি আরও যোগ করেন, “তবে আমরা কোনও খেলা খেলছি না; অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এটি করছি।”

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান অবরোধ ও সামুদ্রিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ইতোমধ্যে তেহরান কার্যত এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়।

টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।

সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে এক রকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

ইরানি বন্দর অবরোধে মার্কিন নৌবাহিনী ‘জলদস্যুর মতো’ কাজ করছে: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৫:৪৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানি বন্দর ঘিরে চলমান অবরোধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী ‘জলদস্যুর মতো’ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একটি সামরিক অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা জাহাজের ওপর নেমে পড়ি এবং সেটি দখলে নিই। আমরা কার্গো নিয়েছি, তেল নিয়েছি- এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা।”

এ সময় সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। এর মধ্যেই তিনি আরও যোগ করেন, “তবে আমরা কোনও খেলা খেলছি না; অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এটি করছি।”

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান অবরোধ ও সামুদ্রিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ইতোমধ্যে তেহরান কার্যত এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়।

টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।

সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে এক রকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।