ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছিনতাই শেষে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেওয়া হয় বুলেটকে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেছিলেন, ‘ঘুমিয়ে পড়, আমার আসতে দেরি হবে।’ এরপর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সেই ঘুম ভাঙে কুমিল্লার কাছে, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুমের মধ্যে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলেও তিনি টের পাননি। পরে ঘুম থেকে উঠে নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাঁকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন। কাছাকাছি তুলনামূলক নিরাপদ স্থান থাকা সত্ত্বেও অনিরাপদ এলাকায় নামিয়ে দেওয়াকেই তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন স্বজনরা।

বুলেট বৈরাগীর মামা কার্তিক বলেন, ভুল স্থানে নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তাঁর হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ধস্তাধস্তির সময় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

র‍্যাব জানায়, বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগী উল্টো পথে জাঙ্গালিয়া যাওয়ার গাড়ি খুঁজছিলেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশায় থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁকে টার্গেট করে। যাত্রী সেজে তারা তাকে গাড়িতে তোলে। পরে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

সোমবাররাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো—ইমরান হোসেন হৃদয়, মোহাম্মদ সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, মোহাম্মদ সুজন ও রাহাতুল রহমান জুয়েল।

সূত্র জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। কর্মস্থলে তিনি সবার কাছে ভদ্র ও অমায়িক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে। কুমিল্লার রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

বিবিরবাজার স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, বুলেট বৈরাগী ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ছিনতাই শেষে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেওয়া হয় বুলেটকে

আপডেট সময় ০৬:৪০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেছিলেন, ‘ঘুমিয়ে পড়, আমার আসতে দেরি হবে।’ এরপর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সেই ঘুম ভাঙে কুমিল্লার কাছে, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুমের মধ্যে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলেও তিনি টের পাননি। পরে ঘুম থেকে উঠে নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাঁকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন। কাছাকাছি তুলনামূলক নিরাপদ স্থান থাকা সত্ত্বেও অনিরাপদ এলাকায় নামিয়ে দেওয়াকেই তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন স্বজনরা।

বুলেট বৈরাগীর মামা কার্তিক বলেন, ভুল স্থানে নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তাঁর হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ধস্তাধস্তির সময় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

র‍্যাব জানায়, বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগী উল্টো পথে জাঙ্গালিয়া যাওয়ার গাড়ি খুঁজছিলেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশায় থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁকে টার্গেট করে। যাত্রী সেজে তারা তাকে গাড়িতে তোলে। পরে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

সোমবাররাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো—ইমরান হোসেন হৃদয়, মোহাম্মদ সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, মোহাম্মদ সুজন ও রাহাতুল রহমান জুয়েল।

সূত্র জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। কর্মস্থলে তিনি সবার কাছে ভদ্র ও অমায়িক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে। কুমিল্লার রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

বিবিরবাজার স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, বুলেট বৈরাগী ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।