ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

চাপে পড়ে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর ঘোষণা ফিফার

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ফিফা নীতিগতভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভ্যাঙ্কুভারে হতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের একটি সভায় অনুমোদিত হবে এই বর্ধিত তহবিলের বিস্তারিত রূপরেখা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মূলত বেশ কয়েকটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই সাড়া দিয়েছে। ফিফা গত ডিসেম্বরে রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছিল। যেখানে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দলের প্রত্যেকের সর্বনিম্ন ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিজয়ীদের ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কিছু জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনার পর এটি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা সকল দলের জন্য আর্থিক অনুদান এবং ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য উপলব্ধ উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায়ের আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে। ফিফা তার “ফিফা ফরওয়ার্ড” প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের কল্যাণে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে থাকতে পেরে গর্বিত। আলোচনা সাপেক্ষে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।’

আসন্ন বিশ্বকাপসহ চার বছরের এই চক্রে ফিফা ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে কেবল এই টুর্নামেন্ট থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফিফার এই শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

ফিফার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তাদের আয়ের ১১.৬৭ বিলিয়ন ডলার “বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে” পুনবণ্টন করা হবে, যা আগের চক্রের তুলনায় ২০% বেশি। এখন এই অংকটি আরও বৃদ্ধি পাবে। ইংলিশ এফএ-সহ ইউরোপের বড় বড় অ্যাসোসিয়েশনগুলো বিশ্বকাপে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রাইজ ফান্ড বাড়ানোর জন্য ফিফার কাছে আবেদন করেছিল বলে জানা গেছে।

ফিফার প্রাথমিক বণ্টন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পুরস্কারের অর্থ খুব সামান্য পরিমাণে বাড়ে। শেষ ৩২-এ পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার, শেষ ১৬-র জন্য আরও ৪ মিলিয়ন ডলার এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য অতিরিক্ত ৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়; তবে সবচেয়ে বড় লাফটি রাখা হয়েছে সেমিফাইনালিস্ট এবং ফাইনালিস্টদের জন্য।

এর ফলে, অনেক ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন দাবি করেছিল যে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তারা তাদের পক্ষ থেকে ইউয়েফাকে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফেডারেশনগুলোর উদ্বেগ আমলে নেওয়ায় তারা ফিফার প্রশংসা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের পাশাপাশি, জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ওপর আরোপিত অসম করের বোঝা তাদের আর্থিক দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিফা নিজে করমুক্ত সুবিধা পেলেও, গত টুর্নামেন্টগুলোর মতো এবার ৪৮টি কোয়ালিফায়ার দলের জন্য কর ছাড়ের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়নি। জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে তাদের উপার্জনের ওপর বিভিন্ন ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি ট্যাক্স দিতে হবে, যা স্থানভেদে ভিন্ন হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

চাপে পড়ে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর ঘোষণা ফিফার

আপডেট সময় ০১:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ফিফা নীতিগতভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভ্যাঙ্কুভারে হতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের একটি সভায় অনুমোদিত হবে এই বর্ধিত তহবিলের বিস্তারিত রূপরেখা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মূলত বেশ কয়েকটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই সাড়া দিয়েছে। ফিফা গত ডিসেম্বরে রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছিল। যেখানে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দলের প্রত্যেকের সর্বনিম্ন ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিজয়ীদের ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কিছু জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনার পর এটি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা সকল দলের জন্য আর্থিক অনুদান এবং ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য উপলব্ধ উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায়ের আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে। ফিফা তার “ফিফা ফরওয়ার্ড” প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের কল্যাণে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে থাকতে পেরে গর্বিত। আলোচনা সাপেক্ষে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।’

আসন্ন বিশ্বকাপসহ চার বছরের এই চক্রে ফিফা ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে কেবল এই টুর্নামেন্ট থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফিফার এই শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

ফিফার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তাদের আয়ের ১১.৬৭ বিলিয়ন ডলার “বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে” পুনবণ্টন করা হবে, যা আগের চক্রের তুলনায় ২০% বেশি। এখন এই অংকটি আরও বৃদ্ধি পাবে। ইংলিশ এফএ-সহ ইউরোপের বড় বড় অ্যাসোসিয়েশনগুলো বিশ্বকাপে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রাইজ ফান্ড বাড়ানোর জন্য ফিফার কাছে আবেদন করেছিল বলে জানা গেছে।

ফিফার প্রাথমিক বণ্টন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পুরস্কারের অর্থ খুব সামান্য পরিমাণে বাড়ে। শেষ ৩২-এ পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার, শেষ ১৬-র জন্য আরও ৪ মিলিয়ন ডলার এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য অতিরিক্ত ৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়; তবে সবচেয়ে বড় লাফটি রাখা হয়েছে সেমিফাইনালিস্ট এবং ফাইনালিস্টদের জন্য।

এর ফলে, অনেক ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন দাবি করেছিল যে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তারা তাদের পক্ষ থেকে ইউয়েফাকে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফেডারেশনগুলোর উদ্বেগ আমলে নেওয়ায় তারা ফিফার প্রশংসা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের পাশাপাশি, জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ওপর আরোপিত অসম করের বোঝা তাদের আর্থিক দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিফা নিজে করমুক্ত সুবিধা পেলেও, গত টুর্নামেন্টগুলোর মতো এবার ৪৮টি কোয়ালিফায়ার দলের জন্য কর ছাড়ের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়নি। জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে তাদের উপার্জনের ওপর বিভিন্ন ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি ট্যাক্স দিতে হবে, যা স্থানভেদে ভিন্ন হয়।