ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

এক ভাই খুন, আরেক ভাই আটক, বাবার লাশ রেললাইনের পাশে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই ছেলেকে নিয়ে এক রুমে ঘুমিয়ে থাকা বাবার পরিবারে আকাশ ভেঙে পড়েছে। এক ছেলেকে খুন করা হয়েছে আর বাবার লাশ পড়ে আছে রেললাইনের পাশে। এ ঘটনায় পুলিশ অক্ষত ছেলেকে আটক করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবা সোহেল হোসেন দর্জি (৫৫) উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। নিহত ছেলে সাকিব হোসেন দর্জি (১৭) ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আটক সোহান দার্জি (৩০) সোহেলের ছেলে ও সাকিবের বড় ভাই। সোহেলের স্ত্রী এক বছর আগে মারা গেছেন।

পুলিশ জানায়, সোহেল তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে চিৎকার চেচামেচি শুনে আশপাশের মানুষ বের হয়। এরপর রুমের ভেতরে সাকিবের লাশ ও পাশের রেললাইনে বাবা সোহেলের লাশ পাওয়া যায়। সাকিবের লাশের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকসেবন নিয়ে পরিবারের অভ্যন্তরে দীর্ঘ কলহ ছিল। ঘটনার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে—সাকিব ও সোহানের সঙ্গে একই ঘরে অবস্থান করেন। তদন্তকালে সাকিবের লাশ জখমের যে ধরণ পাওয়া গেছে, তা সাধারণ পারিবারিক কলহ থেকে ভিন্ন। সাকিবের মাথার পেছনে গভীর জখম, ডান হাতের কব্জি এবং বাম পায়ের গোড়ালির উপরের অংশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সাকিবের লাশ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে তা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।

​একই ঘরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সোহানের অক্ষত থাকা এবং দেওয়া বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তার ভূমিকা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া মাদকাসক্ত বাবাকে ব্যবহার করে অন্য কেউ বা সোহান নিজে এ নৃশংসতায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবিত সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাস্যবাদ করা হচ্ছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

এক ভাই খুন, আরেক ভাই আটক, বাবার লাশ রেললাইনের পাশে

আপডেট সময় ১২:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই ছেলেকে নিয়ে এক রুমে ঘুমিয়ে থাকা বাবার পরিবারে আকাশ ভেঙে পড়েছে। এক ছেলেকে খুন করা হয়েছে আর বাবার লাশ পড়ে আছে রেললাইনের পাশে। এ ঘটনায় পুলিশ অক্ষত ছেলেকে আটক করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবা সোহেল হোসেন দর্জি (৫৫) উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। নিহত ছেলে সাকিব হোসেন দর্জি (১৭) ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আটক সোহান দার্জি (৩০) সোহেলের ছেলে ও সাকিবের বড় ভাই। সোহেলের স্ত্রী এক বছর আগে মারা গেছেন।

পুলিশ জানায়, সোহেল তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে চিৎকার চেচামেচি শুনে আশপাশের মানুষ বের হয়। এরপর রুমের ভেতরে সাকিবের লাশ ও পাশের রেললাইনে বাবা সোহেলের লাশ পাওয়া যায়। সাকিবের লাশের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকসেবন নিয়ে পরিবারের অভ্যন্তরে দীর্ঘ কলহ ছিল। ঘটনার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে—সাকিব ও সোহানের সঙ্গে একই ঘরে অবস্থান করেন। তদন্তকালে সাকিবের লাশ জখমের যে ধরণ পাওয়া গেছে, তা সাধারণ পারিবারিক কলহ থেকে ভিন্ন। সাকিবের মাথার পেছনে গভীর জখম, ডান হাতের কব্জি এবং বাম পায়ের গোড়ালির উপরের অংশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সাকিবের লাশ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে তা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।

​একই ঘরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সোহানের অক্ষত থাকা এবং দেওয়া বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তার ভূমিকা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া মাদকাসক্ত বাবাকে ব্যবহার করে অন্য কেউ বা সোহান নিজে এ নৃশংসতায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবিত সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাস্যবাদ করা হচ্ছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।