ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাম ও জ্বালানি নিয়ে লুকোচুরি করছে সরকার: জামায়াত আমির সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের যুবক নিহত নুরকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জামায়াত-শিবির:অভিযোগ রাশেদ খাঁনের পূর্বাচলে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করতে চান তামিম বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এনসিপি থেকে আরও এক নেত্রীর পদত্যাগ হামের টিকা না দেওয়া বিগত দুই সরকারের ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী সরকার গত ২ মাসে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে : প্রেস সচিব সংসদ বয়কটে ক্ষতিগ্রস্ত গণতন্ত্র, অধিকার বঞ্চিত জনগণ : স্পিকার হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি ইরানি বাহিনীর, ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের যুবক নিহত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় আলমাস সরদার ফরিদ নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। তাঁর লাশ রিয়াদের একটি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

নিহত আলমাস সরদার ফরিদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিথুবা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছেলে। আবু তালেব ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য।

আবু তালেব সরদার জানান, পারিবারিক টানাপোড়েনে আড়াই বছর আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবরচিত্রা গ্রামের শাহাবুদ্দিন নামে একজনের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তাঁর ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। তিন-চার মাস পর তাঁকে একটি কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে বেতন ছিল খুবই সামান্য। পরে রিয়াদে একটি কফি হাউসে কাজ নেন। এখানে বেশ ভালোই চলছিল। হঠাৎ গত ২৪ মার্চ থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

আবু তালেব বলেন, খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে তার মোবাইল ফোনে সৌদিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাঁর ছেলের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, গত ২৪ মার্চে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদ মারা গেছেন।

ফরিদের সঙ্গে একই বাসায় থাকা লোকজন তাঁর বাবাকে জানান, গত ২৪ মার্চ ফরিদ মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে ডিউটিতে গেলে পরে আর ফিরে আসেননি। তারা ভেবেছিলেন, পুলিশ হয়তো তাঁকে যে কোনো অন্যায়ে ধরেছে। কিন্তু জানা গেল, সড়ক পার হতে গিয়েই গাড়িচাপায় মারা যান ফরিদ।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ফরিদ। অনেক আশা নিয়ে ধারদেনা করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠায় পরিবার। সাংবাদিক আবু তালেব জানান, সন্তানের লাশ দেশে আনার জন্য আদম ব্যাপারী শাহাবুদ্দিনের শ্বশুরকে শুক্রবার বিকেলে বলা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত জামাতা শাহাবুদ্দিনকে জানাবেন।

ছেলের লাশ আনতে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছেন আবু তালেব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন আর কিছু চাওয়ার নাই, চাই ছেলের লাশটা। যদি আরও কটা দিন লাগে, তার পরও ছেলের নিথর দেহটির জন্য অপেক্ষা করব।’ তিনি জানান, তাঁর ছেলের লাশ রিয়াদের নুজ হা আল হাম্মাদি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের ভাষ্য, ফরিদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে তাঁর পরিবারকে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হবে।

শোক প্রকাশ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের কেউ এখনও যোগাযোগ করেননি। সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জেনেছেন তিনি। পরিবার থেকে যোগাযোগ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

হাম ও জ্বালানি নিয়ে লুকোচুরি করছে সরকার: জামায়াত আমির

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের যুবক নিহত

আপডেট সময় ১১:১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় আলমাস সরদার ফরিদ নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। তাঁর লাশ রিয়াদের একটি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

নিহত আলমাস সরদার ফরিদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিথুবা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছেলে। আবু তালেব ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য।

আবু তালেব সরদার জানান, পারিবারিক টানাপোড়েনে আড়াই বছর আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবরচিত্রা গ্রামের শাহাবুদ্দিন নামে একজনের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তাঁর ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। তিন-চার মাস পর তাঁকে একটি কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে বেতন ছিল খুবই সামান্য। পরে রিয়াদে একটি কফি হাউসে কাজ নেন। এখানে বেশ ভালোই চলছিল। হঠাৎ গত ২৪ মার্চ থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

আবু তালেব বলেন, খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে তার মোবাইল ফোনে সৌদিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাঁর ছেলের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, গত ২৪ মার্চে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদ মারা গেছেন।

ফরিদের সঙ্গে একই বাসায় থাকা লোকজন তাঁর বাবাকে জানান, গত ২৪ মার্চ ফরিদ মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে ডিউটিতে গেলে পরে আর ফিরে আসেননি। তারা ভেবেছিলেন, পুলিশ হয়তো তাঁকে যে কোনো অন্যায়ে ধরেছে। কিন্তু জানা গেল, সড়ক পার হতে গিয়েই গাড়িচাপায় মারা যান ফরিদ।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ফরিদ। অনেক আশা নিয়ে ধারদেনা করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠায় পরিবার। সাংবাদিক আবু তালেব জানান, সন্তানের লাশ দেশে আনার জন্য আদম ব্যাপারী শাহাবুদ্দিনের শ্বশুরকে শুক্রবার বিকেলে বলা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত জামাতা শাহাবুদ্দিনকে জানাবেন।

ছেলের লাশ আনতে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছেন আবু তালেব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন আর কিছু চাওয়ার নাই, চাই ছেলের লাশটা। যদি আরও কটা দিন লাগে, তার পরও ছেলের নিথর দেহটির জন্য অপেক্ষা করব।’ তিনি জানান, তাঁর ছেলের লাশ রিয়াদের নুজ হা আল হাম্মাদি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের ভাষ্য, ফরিদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে তাঁর পরিবারকে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হবে।

শোক প্রকাশ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের কেউ এখনও যোগাযোগ করেননি। সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জেনেছেন তিনি। পরিবার থেকে যোগাযোগ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।