ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সংসদীয় ইতিহাসে এক অধিবেশনে এত বিপুল পরিমাণ বিল পাস বা অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার নজির নেই।’

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের প্রেক্ষাপট ও সরকারের সদিচ্ছা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একটি সদিচ্ছার ব্যাখ্যা আমি ছোট্ট করে দিতে চাই। আমাদের বাধ্যবাধকতা হলো— সকল বিল আইনে পরিণত করি অথবা ল্যাপস করি, যাই কিছু করি না কেন— তার সময় হলো ৩০ দিন। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই ৩০ দিনের বাধ্যবাধকতা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১২ মার্চ পার্লামেন্ট বসেছে এবং সেদিনই আমরা সকল আইনগুলো উপস্থাপন করেছি। কিন্তু ১৩ ও ১৪ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় আমরা কাজ করতে পারিনি। এরপর শবে কদর ও ঈদের ছুটির কারণে ১৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ বন্ধ ছিল। ফলে প্রথম ১৫ দিন আমরা মূলত কোনো কাজই করতে পারিনি।’

তিনি জানান, এই সীমিত সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিবেশনের প্রথম দিনই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা ঈদের ছুটির মধ্যেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে একজন নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞকে কমিটির সাথে যুক্ত করা হয়েছিল।

সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিলগুলো সম্পন্ন করতে আমি নিজে একেবারেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। এত বেশি অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাসের কাজ স্বাধীনতার পরে আর কখনো হয়নি।’

তিনি আরও জানান, বিশেষ কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলতা ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ

আপডেট সময় ১১:৩২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সংসদীয় ইতিহাসে এক অধিবেশনে এত বিপুল পরিমাণ বিল পাস বা অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার নজির নেই।’

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের প্রেক্ষাপট ও সরকারের সদিচ্ছা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একটি সদিচ্ছার ব্যাখ্যা আমি ছোট্ট করে দিতে চাই। আমাদের বাধ্যবাধকতা হলো— সকল বিল আইনে পরিণত করি অথবা ল্যাপস করি, যাই কিছু করি না কেন— তার সময় হলো ৩০ দিন। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই ৩০ দিনের বাধ্যবাধকতা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১২ মার্চ পার্লামেন্ট বসেছে এবং সেদিনই আমরা সকল আইনগুলো উপস্থাপন করেছি। কিন্তু ১৩ ও ১৪ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় আমরা কাজ করতে পারিনি। এরপর শবে কদর ও ঈদের ছুটির কারণে ১৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ বন্ধ ছিল। ফলে প্রথম ১৫ দিন আমরা মূলত কোনো কাজই করতে পারিনি।’

তিনি জানান, এই সীমিত সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিবেশনের প্রথম দিনই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা ঈদের ছুটির মধ্যেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে একজন নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞকে কমিটির সাথে যুক্ত করা হয়েছিল।

সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিলগুলো সম্পন্ন করতে আমি নিজে একেবারেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। এত বেশি অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাসের কাজ স্বাধীনতার পরে আর কখনো হয়নি।’

তিনি আরও জানান, বিশেষ কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলতা ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।