ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার আদালতে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার রবিউল্লাহ ও অফিস সহায়ক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে আইনজীবীসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এতে আদালত অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আদালতের মতো স্থানে আইনজীবীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরাও।

এদিকে টাকা নেওয়ার ঘটনার বিষয়টি নজরে আসায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। রোববার আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন নীল কাগজের মামলার নথি নিয়ে আদালতের কক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় জনৈক আইনজীবী তার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তার হাতে দেন। এরপর ফারুক হোসেন ওই আইনজীবীকে মামলা সংক্রান্ত একটি নীল কাগজ তাকে প্রদান করেন।

ওই ভিডিওর ৪০ সেকেন্ডে দেখা যায়, আদালতের এজলাসের পাশে নিজ চেয়ারে বসে আছেন পেশকার রবিউল্লাহ। এ সময় জনৈক ব্যক্তি তাকে টাকা দিতে দেখা যায়। এ সময় তিনি আরও কিছু টাকা দাবি করলে পুনরায় ওই ব্যক্তি টাকা দেন। চেয়ারে বসে দুই দফায় তিনি টাকা নেন এবং অফিসের ড্রয়ার খুলে একটি কাগজের নিচে টাকাগুলো ঢেকে রাখেন। পরে ড্রয়ারটি বন্ধ করে দেন।

এদিকে আদালতের এজলাস কক্ষে অবস্থান করে টাকা নেওয়ার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি নজরে আসায় ইতোমধ্যে আদালতের পেশকার ও অফিস সহায়ককে শোকজ করা হয়েছে। এরপর উভয়ে লিখিত জবাব সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেছেন।

টাকা নেওয়া ও ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে পেশকার রবিউল্লাহ জানান, কে ভিডিওটি ধারণ করেছে বা ছড়িয়েছে, তা আমার জানা নেই।

এ ঘটনায় তাকে শোকজ করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত জবাব দিয়েছি।

তবে অপর অভিযুক্ত অফিস সহায়ক ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী বলেন, প্রকাশ্যে ঘুস নিয়ে ভাইরাল হওয়া আদালতের দুই কর্মচারীর বিষয়ে আগেও এমন বেশ কিছু অভিযোগ ছিল। এখন ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাদের ঘুষ নেয়ার বিষয়টি এখন আদালত পাড়ায় সবার মুখে মুখে। তাই আদালতের সম্মান রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার রবিউল্লাহ ২০০৫ সালের দিকে একই আদালতের সেরেস্তা শাখায় সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে একই আদালতে উচ্চমান সহকারী পদে প্রেষণে থেকে যান। টানা ২০ বছর একই আদালতে থাকাবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী জজ চান্দিনা আদালতে বদলি হন। সেখানে যোগদানের ৬ মাসের মাথায় পুনরায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়ে পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘুরেফিরে টানা ২১ বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করে একই আদালতে চাকরি করা এবং প্রকাশ্য আদালতে ঘুস গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এদিকে একই আদালতের অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন ২০১৭ সালের ১৯ জুন চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আদালতে দায়িত্ব পালন করে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১১ আগস্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যোগদান করে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, প্রকাশ্যে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে পেশকার ও অফিস সহায়ককে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা লিখিত জবাব দিয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. কাইমুল হক জানান, ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা জজ আদালতের স্টাফ। দুইজনকে শোকজ করার কথা শুনেছি। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ওই আদালতের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

কুমিল্লার আদালতে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ১০:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার রবিউল্লাহ ও অফিস সহায়ক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে আইনজীবীসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এতে আদালত অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আদালতের মতো স্থানে আইনজীবীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরাও।

এদিকে টাকা নেওয়ার ঘটনার বিষয়টি নজরে আসায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। রোববার আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন নীল কাগজের মামলার নথি নিয়ে আদালতের কক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় জনৈক আইনজীবী তার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তার হাতে দেন। এরপর ফারুক হোসেন ওই আইনজীবীকে মামলা সংক্রান্ত একটি নীল কাগজ তাকে প্রদান করেন।

ওই ভিডিওর ৪০ সেকেন্ডে দেখা যায়, আদালতের এজলাসের পাশে নিজ চেয়ারে বসে আছেন পেশকার রবিউল্লাহ। এ সময় জনৈক ব্যক্তি তাকে টাকা দিতে দেখা যায়। এ সময় তিনি আরও কিছু টাকা দাবি করলে পুনরায় ওই ব্যক্তি টাকা দেন। চেয়ারে বসে দুই দফায় তিনি টাকা নেন এবং অফিসের ড্রয়ার খুলে একটি কাগজের নিচে টাকাগুলো ঢেকে রাখেন। পরে ড্রয়ারটি বন্ধ করে দেন।

এদিকে আদালতের এজলাস কক্ষে অবস্থান করে টাকা নেওয়ার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি নজরে আসায় ইতোমধ্যে আদালতের পেশকার ও অফিস সহায়ককে শোকজ করা হয়েছে। এরপর উভয়ে লিখিত জবাব সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেছেন।

টাকা নেওয়া ও ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে পেশকার রবিউল্লাহ জানান, কে ভিডিওটি ধারণ করেছে বা ছড়িয়েছে, তা আমার জানা নেই।

এ ঘটনায় তাকে শোকজ করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত জবাব দিয়েছি।

তবে অপর অভিযুক্ত অফিস সহায়ক ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী বলেন, প্রকাশ্যে ঘুস নিয়ে ভাইরাল হওয়া আদালতের দুই কর্মচারীর বিষয়ে আগেও এমন বেশ কিছু অভিযোগ ছিল। এখন ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাদের ঘুষ নেয়ার বিষয়টি এখন আদালত পাড়ায় সবার মুখে মুখে। তাই আদালতের সম্মান রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার রবিউল্লাহ ২০০৫ সালের দিকে একই আদালতের সেরেস্তা শাখায় সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে একই আদালতে উচ্চমান সহকারী পদে প্রেষণে থেকে যান। টানা ২০ বছর একই আদালতে থাকাবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী জজ চান্দিনা আদালতে বদলি হন। সেখানে যোগদানের ৬ মাসের মাথায় পুনরায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়ে পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘুরেফিরে টানা ২১ বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করে একই আদালতে চাকরি করা এবং প্রকাশ্য আদালতে ঘুস গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এদিকে একই আদালতের অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন ২০১৭ সালের ১৯ জুন চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আদালতে দায়িত্ব পালন করে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১১ আগস্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যোগদান করে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, প্রকাশ্যে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে পেশকার ও অফিস সহায়ককে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা লিখিত জবাব দিয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. কাইমুল হক জানান, ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা জজ আদালতের স্টাফ। দুইজনকে শোকজ করার কথা শুনেছি। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ওই আদালতের।