ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

নারায়ণগঞ্জে নবজাতককে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিজের জন্ম দেওয়া নবজাতক শিশুকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দম্পতিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বক্তারকান্দি এলাকার দারুল হক মাদ্রাসার পেছনে মোজাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া রেহেনা বেগম ও আব্দুল মালেক দম্পতি বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নবজাতক শিশুটিকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। একপর্যায়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের পাশে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং ওই দম্পতিকে হাতেনাতে আটক করেন। নিজের সন্তানকে এভাবে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, রেহেনা বেগমের স্বামী আব্দুল মালেক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও পেশায় রিকশাচালক। তাদের ইতোমধ্যে তিনটি সন্তান রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে তারা বক্তারকান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার বিষয়ে রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী সন্তানকে মেনে নিতে পারছেন না। আমার কাছেও টাকা-পয়সা নেই। আমি কিভাবে সন্তানকে লালন-পালন করবো। সেই চিন্তা থেকেই ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।’

অন্যদিকে তার স্বামী আব্দুল মালেক দাবি করেন, ‘এই সন্তান আমার না। কোথা থেকে তাকে এনেছে আমি জানি না। তাই আমি এই সন্তানকে মানতে পারছি না।’

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আরিফ তালুকদার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে নবজাতকটিকে তার মা-বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

নারায়ণগঞ্জে নবজাতককে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টা

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিজের জন্ম দেওয়া নবজাতক শিশুকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দম্পতিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বক্তারকান্দি এলাকার দারুল হক মাদ্রাসার পেছনে মোজাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া রেহেনা বেগম ও আব্দুল মালেক দম্পতি বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নবজাতক শিশুটিকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। একপর্যায়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের পাশে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং ওই দম্পতিকে হাতেনাতে আটক করেন। নিজের সন্তানকে এভাবে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, রেহেনা বেগমের স্বামী আব্দুল মালেক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও পেশায় রিকশাচালক। তাদের ইতোমধ্যে তিনটি সন্তান রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে তারা বক্তারকান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার বিষয়ে রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী সন্তানকে মেনে নিতে পারছেন না। আমার কাছেও টাকা-পয়সা নেই। আমি কিভাবে সন্তানকে লালন-পালন করবো। সেই চিন্তা থেকেই ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।’

অন্যদিকে তার স্বামী আব্দুল মালেক দাবি করেন, ‘এই সন্তান আমার না। কোথা থেকে তাকে এনেছে আমি জানি না। তাই আমি এই সন্তানকে মানতে পারছি না।’

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আরিফ তালুকদার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে নবজাতকটিকে তার মা-বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।