ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত পরিকল্পিতভাবে উত্তরাঞ্চলে বড় উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করুন,সরকারকে গোলাম পরওয়ার হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, আসলেই গ্রেফতার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ আয়নাঘরকে সমর্থন করা: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে সমর্থন করা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটকে ইগনোর (উপেক্ষা) করা হলে বাউফল-পটুয়াখালীসহ গোটা বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠবে।

আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মাসুদ বলেন, ‘আজকে সংবিধানের লাইন ধরে ধরে যদি আমাদেরকে চলতে হতো, তাহলে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তবে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে থাকার কথা, উনার দেশের বাইরে থাকার কথা না। জুলাই বিপ্লবের পর যে গণভোটের দাবি উঠেছে, তাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা ৫১ শতাংশের দোহাই দিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণবিপ্লব ও গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করলে জাতি আবারও জেগে উঠবে।’

নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৩৫০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। সাড়ে চার বছর আমি জেল খেটেছি। তিনবার রি-অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং দুইবার গুম করা হয়েছিল। ডিজিএফআই থেকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মন্ত্রিত্ব ও দেশ পরিচালনার ভাগ নেওয়ার জন্য, শর্ত ছিল শেখ হাসিনার নীতি ও ৭২-এর সংবিধান মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা আপস করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন—সুযোগ পেলে আমরা এই (৭২-এর) সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেব। অথচ আজ বর্তমান সরকারি দলের মধ্যে সেই সংবিধানের প্রতি কেন এত প্রেম জাগ্রত হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।’

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. মাসুদ বলেন, ‘জুলাই সনদকে যদি আজকে ইগনোর করা হয়, তবে আমাদের আবার সেই গুম-খুনের আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে ধিক্কার জানানো। আমরা যদি এই গণভোট কার্যকর না করি, তবে ১৭ বছরের সেই জেল-জুলুমের জায়গায় আমাদের ফিরে যেতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত

গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ আয়নাঘরকে সমর্থন করা: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

আপডেট সময় ০৯:২০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে সমর্থন করা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটকে ইগনোর (উপেক্ষা) করা হলে বাউফল-পটুয়াখালীসহ গোটা বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠবে।

আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মাসুদ বলেন, ‘আজকে সংবিধানের লাইন ধরে ধরে যদি আমাদেরকে চলতে হতো, তাহলে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তবে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে থাকার কথা, উনার দেশের বাইরে থাকার কথা না। জুলাই বিপ্লবের পর যে গণভোটের দাবি উঠেছে, তাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা ৫১ শতাংশের দোহাই দিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণবিপ্লব ও গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করলে জাতি আবারও জেগে উঠবে।’

নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৩৫০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। সাড়ে চার বছর আমি জেল খেটেছি। তিনবার রি-অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং দুইবার গুম করা হয়েছিল। ডিজিএফআই থেকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মন্ত্রিত্ব ও দেশ পরিচালনার ভাগ নেওয়ার জন্য, শর্ত ছিল শেখ হাসিনার নীতি ও ৭২-এর সংবিধান মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা আপস করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন—সুযোগ পেলে আমরা এই (৭২-এর) সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেব। অথচ আজ বর্তমান সরকারি দলের মধ্যে সেই সংবিধানের প্রতি কেন এত প্রেম জাগ্রত হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।’

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. মাসুদ বলেন, ‘জুলাই সনদকে যদি আজকে ইগনোর করা হয়, তবে আমাদের আবার সেই গুম-খুনের আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে ধিক্কার জানানো। আমরা যদি এই গণভোট কার্যকর না করি, তবে ১৭ বছরের সেই জেল-জুলুমের জায়গায় আমাদের ফিরে যেতে হবে।’