ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ট্রেনের নিচে শুয়ে ব্যর্থ হয়ে চলন্ত রেল থেকে লাফ, তবুও বেঁচে গেলেন তিনি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মেহেরুন নেছা পারুল (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। দুই পা ভেঙে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে তিনি প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে ঢাকা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরুন নেছা পারুল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দীঘির ডাঙ্গাপাড়ার মৃত ছাবের আহম্মেদ ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবালা গ্রামের রাকিব মোল্লার তৃতীয় স্ত্রী। পারুলের এর আগেও দুটি বিয়ে হয়। একপক্ষে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। প্রেমের তৃতীয় বিয়ের পর পারুল তার স্বামী রাকিব মোল্লার সঙ্গে ঢাকার কল্যাণপুর এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘরেও তার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। রাকিব মোল্লা স্ত্রী পারুলকে বাবার বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য রোববার রাতে ট্রেনে সান্তাহারে আসেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাকিব অন্য ট্রেনে ঢাকার দিকে চলে যান।

এদিকে মেহেরুন নেছা পারুল রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ও রেলের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে যেতে চাইলে সবাই তাকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনটি সান্তাহারের অদূরে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে পৌঁছলে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে যান। এরপর তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার এসআই ফজলুর রহমান জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় গৃহবধূ পারুলের দুই পা ভেঙে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

মেয়ের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত মা মাহমুদা বেগম সোমবার বিকালে সান্তাহারে পৌঁছার পর জানান, সে (পারুল) তিনবার বাড়ি থেকে ছেলেদের সঙ্গে বের হয়ে যায়। এ কারণে তারা পারুলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি জামাইয়ের নামও তারা জানেন না।

তিনি বলেন, যে মেয়ে বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করে তার সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দিতে চাই না।

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মেহেরুন নেছা পারুল বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মা এসেছেন। তাকে তার কাছে হস্তান্তর ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

ট্রেনের নিচে শুয়ে ব্যর্থ হয়ে চলন্ত রেল থেকে লাফ, তবুও বেঁচে গেলেন তিনি

আপডেট সময় ০৫:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মেহেরুন নেছা পারুল (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। দুই পা ভেঙে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে তিনি প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে ঢাকা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরুন নেছা পারুল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দীঘির ডাঙ্গাপাড়ার মৃত ছাবের আহম্মেদ ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবালা গ্রামের রাকিব মোল্লার তৃতীয় স্ত্রী। পারুলের এর আগেও দুটি বিয়ে হয়। একপক্ষে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। প্রেমের তৃতীয় বিয়ের পর পারুল তার স্বামী রাকিব মোল্লার সঙ্গে ঢাকার কল্যাণপুর এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘরেও তার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। রাকিব মোল্লা স্ত্রী পারুলকে বাবার বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য রোববার রাতে ট্রেনে সান্তাহারে আসেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাকিব অন্য ট্রেনে ঢাকার দিকে চলে যান।

এদিকে মেহেরুন নেছা পারুল রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ও রেলের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে যেতে চাইলে সবাই তাকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনটি সান্তাহারের অদূরে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে পৌঁছলে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে যান। এরপর তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার এসআই ফজলুর রহমান জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় গৃহবধূ পারুলের দুই পা ভেঙে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

মেয়ের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত মা মাহমুদা বেগম সোমবার বিকালে সান্তাহারে পৌঁছার পর জানান, সে (পারুল) তিনবার বাড়ি থেকে ছেলেদের সঙ্গে বের হয়ে যায়। এ কারণে তারা পারুলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি জামাইয়ের নামও তারা জানেন না।

তিনি বলেন, যে মেয়ে বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করে তার সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দিতে চাই না।

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মেহেরুন নেছা পারুল বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মা এসেছেন। তাকে তার কাছে হস্তান্তর ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।