আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে নির্মাতারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন—এমন অভিযোগ নতুন নয়। এর জেরে নির্মাতাদের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিকল্প দিশা দেখাচ্ছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে খোলামেলা মত দিয়েছেন অভিনেত্রী-নির্মাতা অপর্ণা সেন। তার মতে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সৃজনশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে প্রথাবহির্ভূত প্রচারণায় নজর কেড়েছে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘নধরের ভেলা’। সিনেমাটি নিয়ে পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য নিজেই স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কলাকুশলীদের পাশে নিয়ে বিক্রি করেছেন টিকিট। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দর্শক টানতেও সফল হয়েছে সিনেমাটি।
একইভাবে ভিন্নধর্মী নির্মাণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে রঞ্জন ঘোষ পরিচালিত এবং অপর্ণা সেনের ‘অদম্য’। সিনেমাটি দর্শকের প্রশংসার পাশাপাশি সহশিল্পীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। ‘অদম্য’ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতারা।
সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে ‘অদম্য’ নিয়ে প্রশংসা করেন অপর্ণা সেন। তার মতে, ছবিটি অতিরিক্ত অলংকরণ না করে বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে, যা দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এই নির্মাতা। তার ভাষ্য, “আমি অত্যন্ত ব্যথিত, দুঃখিত, লজ্জিত এবং ক্রুদ্ধ। ইন্ডাস্ট্রিকে যত ছেড়ে দেবে তত ফুলে-ফেঁপে উঠবে। যত নিয়ন্ত্রণ করবে, তত সমস্যা বাড়বে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তো মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কেউ টাকা লগ্নি করতে চান না। মুম্বাইয়ে আমার বন্ধু-বান্ধব যারা আছেন তাদের কাছে টালিউডের কথা বললেই বলছেন, ‘ওখানে নানা নিয়ন্ত্রণ’। তখন মনে হয় আসলেই তো ঠিক। আমরা সমগ্র ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে হেরে যাচ্ছি।”
এছাড়া অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিষিদ্ধ করার অভিযোগ প্রসঙ্গেও অসন্তোষ জানান তিনি। তার মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং বাইরের ইন্ডাস্ট্রিতেও টালিউড নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে টালিউড একটি কঠিন সময় পার করছে বলেই মনে করেন অপর্ণা সেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























