ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

ইউনেসকো থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সংস্থাটিতে ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাত আছে, এই অভিযোগ তুলে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

সিরিয়াতে পালমিরা বা আমেরিকায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো বহু স্থানকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই ইউনেসকো সারা বিশ্বে পরিচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেসকোতে আর্থিক ঘাটতি যেভাবে বাড়ছে তা নিয়েও তারা চিন্তিত এবং ওই সংস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

ইউনেসকোর প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ‘গভীর আক্ষেপের’। বোকোভা আরও মন্তব্য করেছেন, আমেরিকার বিদায় ‘জাতিসংঘ পরিবার’ তথা বহুপাক্ষিকতার জন্যই বিরাট এক ক্ষতি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসভিত্তিক ইউনেসকো থেকে তাদের প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করে নিয়ে সেই জায়গায় তারা একটি ‘পর্যবেক্ষণ মিশন’ স্থাপন করবে।

এর আগে ইউনেসকোর নেওয়া একের পর এক সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে ইউনেসকো ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে বছর ওই সংস্থায় তাদের যে আর্থিক সহায়তা করার কথা ছিল, তা করেনি।

গত বছর ইউনেসকো জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় স্থান সম্পর্কে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গ্রহণ করে, যাতে ওই পবিত্র স্থানের সঙ্গে ইহুদীদের সম্পর্কের কথা একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। তার প্রতিবাদে ইসরায়েল ইউনেসকোর সঙ্গে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়।

এ বছরের গোড়ার দিকে ইউনেসকো পশ্চিম তীরের প্রাচীন শহর হেবরনকে যেভাবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছিল, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তারও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তবে ‘ফরেন পলিসি’ সাময়িকী বলছে, ইউনেসকো থেকে আমেরিকার প্রত্যাহারের পেছনে শুধু ইসরায়েলকে সমর্থন জানানোই নয়, অর্থ সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যও আছে।

ইউনেসকো এই মুহুর্তে সংস্থার নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত। ইরিনা বোকোভার জায়গায় সংস্থার প্রধান হিসেবে কে আসবেন, তা নিয়ে কাতার ও ফ্রান্সের দুই সাবেক মন্ত্রী যথাক্রমে হামাদ বিন আব্দুলাজিজ আল-কাওয়ারি ও অড্রে অজুলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইউনেসকো থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সংস্থাটিতে ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাত আছে, এই অভিযোগ তুলে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

সিরিয়াতে পালমিরা বা আমেরিকায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো বহু স্থানকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই ইউনেসকো সারা বিশ্বে পরিচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেসকোতে আর্থিক ঘাটতি যেভাবে বাড়ছে তা নিয়েও তারা চিন্তিত এবং ওই সংস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

ইউনেসকোর প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ‘গভীর আক্ষেপের’। বোকোভা আরও মন্তব্য করেছেন, আমেরিকার বিদায় ‘জাতিসংঘ পরিবার’ তথা বহুপাক্ষিকতার জন্যই বিরাট এক ক্ষতি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসভিত্তিক ইউনেসকো থেকে তাদের প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করে নিয়ে সেই জায়গায় তারা একটি ‘পর্যবেক্ষণ মিশন’ স্থাপন করবে।

এর আগে ইউনেসকোর নেওয়া একের পর এক সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে ইউনেসকো ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে বছর ওই সংস্থায় তাদের যে আর্থিক সহায়তা করার কথা ছিল, তা করেনি।

গত বছর ইউনেসকো জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় স্থান সম্পর্কে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গ্রহণ করে, যাতে ওই পবিত্র স্থানের সঙ্গে ইহুদীদের সম্পর্কের কথা একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। তার প্রতিবাদে ইসরায়েল ইউনেসকোর সঙ্গে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়।

এ বছরের গোড়ার দিকে ইউনেসকো পশ্চিম তীরের প্রাচীন শহর হেবরনকে যেভাবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছিল, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তারও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তবে ‘ফরেন পলিসি’ সাময়িকী বলছে, ইউনেসকো থেকে আমেরিকার প্রত্যাহারের পেছনে শুধু ইসরায়েলকে সমর্থন জানানোই নয়, অর্থ সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যও আছে।

ইউনেসকো এই মুহুর্তে সংস্থার নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত। ইরিনা বোকোভার জায়গায় সংস্থার প্রধান হিসেবে কে আসবেন, তা নিয়ে কাতার ও ফ্রান্সের দুই সাবেক মন্ত্রী যথাক্রমে হামাদ বিন আব্দুলাজিজ আল-কাওয়ারি ও অড্রে অজুলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা চলছে।