ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০/৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ নদীর পাড়ে গিয়ে জানতে পারে ঘটনাস্থলটি কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার আওতাধীন। পরে বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুর ইসলাম ও পারুলী বেগমের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেইজ পরিচালনা করতেন। মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।

নিহতের পিতা সফিকুল ইসলাম ও মাতা পারুলী বেগমের দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলা রয়েছে। ফেইজবুকে একটি পেইজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতে থাকে। আমি শুনেছি তাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে এঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে একটি চক্র তাকে জড়িয়ে মিথ্যা এবং অপপ্রচার করা হচ্ছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০৮:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০/৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ নদীর পাড়ে গিয়ে জানতে পারে ঘটনাস্থলটি কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার আওতাধীন। পরে বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুর ইসলাম ও পারুলী বেগমের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেইজ পরিচালনা করতেন। মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।

নিহতের পিতা সফিকুল ইসলাম ও মাতা পারুলী বেগমের দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলা রয়েছে। ফেইজবুকে একটি পেইজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতে থাকে। আমি শুনেছি তাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে এঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে একটি চক্র তাকে জড়িয়ে মিথ্যা এবং অপপ্রচার করা হচ্ছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।