ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আগুন, দুই রোগীর মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

এ ঘটনায় পাশের ওয়ার্ডের দুই রোগী আতঙ্ক ও অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। মৃতরা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বারৈজ্জার হাট এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। কাজী আতাউর রহমান বরিশাল মহানগর পুলিশের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার কাজী আনসার আলীর বাবা। আহত আনসার সদস্যরা হলেন মো. রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল।

ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল সদর স্টেশন অফিসার আবু জার গিফারী জানান, খবর পেয়ে তাদের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় ৪০ মিনিটে পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলে। স্টোররুমে বিছানার ফোম, বেডশিট ও বালিশ থাকায় ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- সিগারেটের আগুন বা শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীরা জানান- আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে রোগীদের দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

মৃত কাজী আতাউর রহমানের নাতি মোমিন কাজী অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় তার দাদা চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন এবং সবসময় অক্সিজেন প্রয়োজন হতো। কিন্তু আগুন লাগার পর তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। পরে অক্সিজেনের অভাবে তিনি মারা যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, তার বাবা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তার পাশে থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় পান।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি অংশে আগুন লাগে। সেখানে সীমিত সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনের দুইটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের পুরাতন ভবনের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আনসার সদস্য ও ওয়ার্ড মাস্টার অসুস্থ হয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আগুন, দুই রোগীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

এ ঘটনায় পাশের ওয়ার্ডের দুই রোগী আতঙ্ক ও অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। মৃতরা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বারৈজ্জার হাট এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। কাজী আতাউর রহমান বরিশাল মহানগর পুলিশের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার কাজী আনসার আলীর বাবা। আহত আনসার সদস্যরা হলেন মো. রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল।

ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল সদর স্টেশন অফিসার আবু জার গিফারী জানান, খবর পেয়ে তাদের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় ৪০ মিনিটে পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলে। স্টোররুমে বিছানার ফোম, বেডশিট ও বালিশ থাকায় ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- সিগারেটের আগুন বা শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীরা জানান- আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে রোগীদের দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

মৃত কাজী আতাউর রহমানের নাতি মোমিন কাজী অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় তার দাদা চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন এবং সবসময় অক্সিজেন প্রয়োজন হতো। কিন্তু আগুন লাগার পর তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। পরে অক্সিজেনের অভাবে তিনি মারা যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, তার বাবা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তার পাশে থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় পান।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি অংশে আগুন লাগে। সেখানে সীমিত সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনের দুইটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের পুরাতন ভবনের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আনসার সদস্য ও ওয়ার্ড মাস্টার অসুস্থ হয়েছেন।