ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

শিশুমৃত্যুর পর নড়ল টনক, বন্ধ আইসিইউ চালু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে আইসিইউতে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাভারের বাসিন্দা মো. সাইয়েদ নামের আট মাস বয়সী শিশুটি গত শনিবার সকালে হাম ও জ্বর নিয়ে ১০০ শয্যার আইডিএইচে ভর্তি হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এসময় চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ থাকায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় সংকটাপন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাম রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি দেখিয়ে একাধিক হাসপাতাল তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আইডিএইচের চিকিৎসকরা আইসিইউ পর্যায়ের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। গত সোমবার রাত নয়টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

এই ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সোমবার রাত ১২ টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল, তার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ ছিল। সংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণে অন্য হাসপাতালও সাধারণত এ ধরনের রোগী নিতে চায় না।

তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পরই আমরা এখানে এসেছি। যেকোনো ভাবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) আইসিইউ চালু করা হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসক সংযুক্ত করে হলেও।

জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২২টি জেলায় মোট ২৪০ শয্যার আইসিইউ স্থাপন করা হয়। এসব ইউনিট পরিচালনায় এক হাজারের বেশি চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আইডিএইচে ওই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ শয্যার একটি আইসিইউ ২০২১ সালে চালু হয়, যেখানে ১২ জন চিকিৎসক নিয়োগ পান। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসব জনবলের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে আইডিএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আইসিইউ চালু রাখতে জনবল চেয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

আজ দুপুরে আইসিইউ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শেষে রোগী রাখার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালের এক নার্স জানান, দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আইডিএইচের তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা জাহান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা আইসিইউ প্রস্তুত করেছি। সাত বেডের আইসিইউর মধ্যে বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চারজন চিকিৎসককে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং নার্সদের ডিউটি রোস্টার তৈরি করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুমৃত্যুর পর নড়ল টনক, বন্ধ আইসিইউ চালু

আপডেট সময় ০৯:২৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে আইসিইউতে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাভারের বাসিন্দা মো. সাইয়েদ নামের আট মাস বয়সী শিশুটি গত শনিবার সকালে হাম ও জ্বর নিয়ে ১০০ শয্যার আইডিএইচে ভর্তি হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এসময় চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ থাকায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় সংকটাপন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাম রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি দেখিয়ে একাধিক হাসপাতাল তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আইডিএইচের চিকিৎসকরা আইসিইউ পর্যায়ের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। গত সোমবার রাত নয়টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

এই ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সোমবার রাত ১২ টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল, তার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ ছিল। সংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণে অন্য হাসপাতালও সাধারণত এ ধরনের রোগী নিতে চায় না।

তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পরই আমরা এখানে এসেছি। যেকোনো ভাবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) আইসিইউ চালু করা হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসক সংযুক্ত করে হলেও।

জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২২টি জেলায় মোট ২৪০ শয্যার আইসিইউ স্থাপন করা হয়। এসব ইউনিট পরিচালনায় এক হাজারের বেশি চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আইডিএইচে ওই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ শয্যার একটি আইসিইউ ২০২১ সালে চালু হয়, যেখানে ১২ জন চিকিৎসক নিয়োগ পান। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসব জনবলের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে আইডিএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আইসিইউ চালু রাখতে জনবল চেয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

আজ দুপুরে আইসিইউ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শেষে রোগী রাখার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালের এক নার্স জানান, দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আইডিএইচের তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা জাহান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা আইসিইউ প্রস্তুত করেছি। সাত বেডের আইসিইউর মধ্যে বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চারজন চিকিৎসককে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং নার্সদের ডিউটি রোস্টার তৈরি করা হয়েছে।