ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঝড়ে লন্ডভন্ড বাড়িঘর, ঈদের আগে অর্ধশত পরিবারের দুর্ভোগ হরমুজ প্রণালিতে অভিযানে কখনোই অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ চাঁদপুরের সাবেক এমপি জিএম ফজলুল হক মারা গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ: মাহদী আমিন অপরিচিতদের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখলে সতর্ক হোন : ডিএমপি কমিশনার জনগণের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করবে বিরোধীদল: জামায়াত আমির শবে কদরে হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান ‘ইসরাইলের মতো’ কাজ করেছে: রশিদ খান

শবে কদরে হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান ‘ইসরাইলের মতো’ কাজ করেছে: রশিদ খান

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

সোমবার শবে কদর পালিত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে। সেই রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করেছে আফগানিস্তান।

এরপরই সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও নবিন উল হকসহ আফগান ক্রিকেটাররা।

হাসপাতালের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে রশিদ খান লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এই হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের। এতে হিংসা ও ঘৃণা আরও বাড়বে।’

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়ে রশিদ আরও লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয় এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’

হাসপাতালের একটি ভিডিও পোস্ট করে মোহাম্মদ নবি লিখেছেন, ‘কাবুলের হাসপাতালে আশার মৃত্যু ঘটল। যে তরুণেরা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানের সেনা শাসনের বলি হলেন। সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাদের জীবন চলে গেল।’

এই হামলাকে ইসরাইলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে নবিন উল হক লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে আর কী তফাত থাকল।’

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুই হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে বিমান হামলার খবর আসে।

আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হামলা হয়েছে। হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যেতে হাসপাতাল ও বেসামরিক ভবনকে নিশানা করছে। এই হামলাকে ‘নীতিবিরুদ্ধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেছেন তিনি।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, কাবুলের কোনো হাসপাতালে হামলা করেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদত দেওয়া সামরিক স্থাপনাগুলিতেই সুনির্দিষ্টভাবে হামলা করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছে পাকিস্তান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শবে কদরে হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান ‘ইসরাইলের মতো’ কাজ করেছে: রশিদ খান

আপডেট সময় ১১:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

সোমবার শবে কদর পালিত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে। সেই রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করেছে আফগানিস্তান।

এরপরই সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও নবিন উল হকসহ আফগান ক্রিকেটাররা।

হাসপাতালের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে রশিদ খান লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এই হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের। এতে হিংসা ও ঘৃণা আরও বাড়বে।’

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়ে রশিদ আরও লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয় এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’

হাসপাতালের একটি ভিডিও পোস্ট করে মোহাম্মদ নবি লিখেছেন, ‘কাবুলের হাসপাতালে আশার মৃত্যু ঘটল। যে তরুণেরা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানের সেনা শাসনের বলি হলেন। সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাদের জীবন চলে গেল।’

এই হামলাকে ইসরাইলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে নবিন উল হক লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে আর কী তফাত থাকল।’

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুই হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে বিমান হামলার খবর আসে।

আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হামলা হয়েছে। হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যেতে হাসপাতাল ও বেসামরিক ভবনকে নিশানা করছে। এই হামলাকে ‘নীতিবিরুদ্ধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেছেন তিনি।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, কাবুলের কোনো হাসপাতালে হামলা করেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদত দেওয়া সামরিক স্থাপনাগুলিতেই সুনির্দিষ্টভাবে হামলা করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছে পাকিস্তান।