ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্ত্রী ‘ফিলিস্তিনের পক্ষে’ কাজ করায় যুক্তরাষ্ট্রে তোপের মুখে মেয়র মামদানি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার স্ত্রীর পুরনো চিত্রকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ঝামেলায় পড়েছেন। মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির কাজ ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন’ গত সপ্তাহে এই খবর প্রথম প্রকাশ করে। তারা জানায়, ২৮ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স চিত্রকর দুওয়াজি আবুলহাওয়ার সংকলিত একটি রচনার জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন। রচনাটি ছিল ‘এভরি মোমেন্ট ইজ আ লাইফ’ শিরোনামে গাজার লেখকদের সংকলনের অংশ।

আবুলহাওয়া পরে স্পষ্ট করেছেন, লেখাটি আসলে গাজার একজন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার ছোটগল্প। ‘এ ট্রেইল অব সোপ’ নামের গল্পটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বলে।

মামদানি জানিয়েছেন, দুওয়াজি একটি তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কাজটি পেয়েছিলেন এবং আবুলহাওয়ার সঙ্গে কখনো ‘দেখা বা যোগাযোগ করেননি।’ আবুলহাওয়াও পরে এই দাবি নিশ্চিত করেছেন।

বিতর্কটি মূলত আবুলহাওয়ার কিছু পুরনো সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন এই পোস্টগুলো ইহুদি-বিদ্বেষী। আবুলহাওয়া অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, তার কথাগুলো একজন ফিলিস্তিনির দৃষ্টিকোণ থেকে আসা যন্ত্রণার প্রকাশ।

আবুলহাওয়া সামাজিক মাধ্যমে গাজায় হত্যাকাণ্ডকে ‘জুইশ সুপ্রিমেসিস্ট গণহত্যা’ বলেছেন। একটি নিবন্ধে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর ঘটনাকে ‘চমকপ্রদ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মামদানি সংবাদ সম্মেলনে আবুলহাওয়ার মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন সব ধরনের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে, দৃঢ়ভাবে।’

তবে মামদানির এই প্রতিক্রিয়া তার কিছু সমর্থকের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা বলছেন মেয়র ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থনকে ইহুদি-বিরোধিতার সঙ্গে মেলানোর ক্ষতিকর আখ্যানকে আরও শক্তিশালী করছেন।

কর্মী শায়েল বেন-ইফ্রাইম বলেছেন, ‘ক্ষমা চাওয়া ও ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বোকামি করেছেন মামদানি। জায়নিস্টদের জন্য কোনো কিছুই কখনো যথেষ্ট নয়। মাথা উঁচু রাখুন।’

আবুলহাওয়া বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামদানির প্রতি রাগ করেননি, তবে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি এমন শক্তির কাছে মাথা নত করলেন যারা আপনাকে, আপনার প্রতিভাবান সুন্দর স্ত্রীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে চায়। সাবধান না হলে, বুঝতেও পারবেন না কখন তারা আপনার আত্মাটুকু শুষে নেবে।’

মামদানি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে ইসলামোফোবিয়ার শিকার হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলায় বারবার ইহুদি-বিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল মামদানির ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বারবার আক্রমণ করেছেন। ইফতারের ছবির পাশে ৯/১১-এর হামলার ছবি দিয়ে তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘শত্রু এখন ভেতরে ঢুকে গেছে।’ অথচ এই ধরনের ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের জন্য তিনি কোনো জবাবদিহির মুখে পড়েননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্ত্রী ‘ফিলিস্তিনের পক্ষে’ কাজ করায় যুক্তরাষ্ট্রে তোপের মুখে মেয়র মামদানি

আপডেট সময় ১০:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার স্ত্রীর পুরনো চিত্রকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ঝামেলায় পড়েছেন। মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির কাজ ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন’ গত সপ্তাহে এই খবর প্রথম প্রকাশ করে। তারা জানায়, ২৮ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স চিত্রকর দুওয়াজি আবুলহাওয়ার সংকলিত একটি রচনার জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন। রচনাটি ছিল ‘এভরি মোমেন্ট ইজ আ লাইফ’ শিরোনামে গাজার লেখকদের সংকলনের অংশ।

আবুলহাওয়া পরে স্পষ্ট করেছেন, লেখাটি আসলে গাজার একজন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার ছোটগল্প। ‘এ ট্রেইল অব সোপ’ নামের গল্পটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বলে।

মামদানি জানিয়েছেন, দুওয়াজি একটি তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কাজটি পেয়েছিলেন এবং আবুলহাওয়ার সঙ্গে কখনো ‘দেখা বা যোগাযোগ করেননি।’ আবুলহাওয়াও পরে এই দাবি নিশ্চিত করেছেন।

বিতর্কটি মূলত আবুলহাওয়ার কিছু পুরনো সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন এই পোস্টগুলো ইহুদি-বিদ্বেষী। আবুলহাওয়া অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, তার কথাগুলো একজন ফিলিস্তিনির দৃষ্টিকোণ থেকে আসা যন্ত্রণার প্রকাশ।

আবুলহাওয়া সামাজিক মাধ্যমে গাজায় হত্যাকাণ্ডকে ‘জুইশ সুপ্রিমেসিস্ট গণহত্যা’ বলেছেন। একটি নিবন্ধে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর ঘটনাকে ‘চমকপ্রদ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মামদানি সংবাদ সম্মেলনে আবুলহাওয়ার মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন সব ধরনের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে, দৃঢ়ভাবে।’

তবে মামদানির এই প্রতিক্রিয়া তার কিছু সমর্থকের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা বলছেন মেয়র ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থনকে ইহুদি-বিরোধিতার সঙ্গে মেলানোর ক্ষতিকর আখ্যানকে আরও শক্তিশালী করছেন।

কর্মী শায়েল বেন-ইফ্রাইম বলেছেন, ‘ক্ষমা চাওয়া ও ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বোকামি করেছেন মামদানি। জায়নিস্টদের জন্য কোনো কিছুই কখনো যথেষ্ট নয়। মাথা উঁচু রাখুন।’

আবুলহাওয়া বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামদানির প্রতি রাগ করেননি, তবে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি এমন শক্তির কাছে মাথা নত করলেন যারা আপনাকে, আপনার প্রতিভাবান সুন্দর স্ত্রীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে চায়। সাবধান না হলে, বুঝতেও পারবেন না কখন তারা আপনার আত্মাটুকু শুষে নেবে।’

মামদানি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে ইসলামোফোবিয়ার শিকার হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলায় বারবার ইহুদি-বিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল মামদানির ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বারবার আক্রমণ করেছেন। ইফতারের ছবির পাশে ৯/১১-এর হামলার ছবি দিয়ে তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘শত্রু এখন ভেতরে ঢুকে গেছে।’ অথচ এই ধরনের ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের জন্য তিনি কোনো জবাবদিহির মুখে পড়েননি।