ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথিতে আসামির বাবা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে গ্রেফতার করতে বুধবার রাতে উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যান। ইমরানকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া (৮৫) ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) বলেন, রাতে ৫ জন পুলিশ এসে আমার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ আমার দাদাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সেখান থেকে উঠার চেষ্টা করে আবারও পড়ে যান তিনি এবং ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদের নামে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। ছেলে ইমরান হোসেনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে সেখানে তিনি পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ অন্য আরেক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেফতার না করে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে আসামি এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। এ সময় আইডি কার্ডের সঙ্গে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।

মহাদেবপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু নামে মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি ইমরান হোসেনকে না পেয়ে তার বাবা আব্দুল হামিদকে এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হামিদ মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথিতে আসামির বাবা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে গ্রেফতার করতে বুধবার রাতে উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যান। ইমরানকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া (৮৫) ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) বলেন, রাতে ৫ জন পুলিশ এসে আমার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ আমার দাদাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সেখান থেকে উঠার চেষ্টা করে আবারও পড়ে যান তিনি এবং ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদের নামে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। ছেলে ইমরান হোসেনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে সেখানে তিনি পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ অন্য আরেক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেফতার না করে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে আসামি এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। এ সময় আইডি কার্ডের সঙ্গে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।

মহাদেবপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু নামে মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি ইমরান হোসেনকে না পেয়ে তার বাবা আব্দুল হামিদকে এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হামিদ মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।