আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
হতে পারে তারা এশীয় ফুটবলের পরাশক্তি, এই আসরের ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭। চীনা মেয়েদের পরাশক্তি মেনেই আজ বাঘিনীর মেজাজে তাদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে নারী ফুটবলে নতুন এক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মঞ্চে খেলতে নেমে লাল-সবুজের পতাকা উঁচুতে রাখতে চান তারা। ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে সেরা ছয়ে থাকলেই মিলবে আগামী বছর বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট, আটের মধ্যে থাকলেও থাকবে সেই সুযোগ। বাংলাদেশের মেয়েরা খেলতে পারবে অলিম্পিকও। সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাই চীন কেন গ্রুপের বাকি দুই দল উত্তর কোরিয়া আর উজবেকিস্তানকেও ভীত নন আফঈদারা।
তবে আবেগটা মাঠের বাইরেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো গোলপোস্ট আগলে রাখা। অতীতে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানোর নজির আছে চীনের মেয়েদের। এই পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচ খেলে ৩৬৭ গোল করেছে চীন। হজম করেছে মাত্র ৩৮ গোল। এই ছোট্ট পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ভালো ঝড় সামলাতে হবে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার-শিউলি আজিমদের। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর জন্য পুরো দল প্রস্তুত বলে গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা, ‘চীন সব দিক দিয়েই ভালো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও শক্তিশালী দল হিসেবে তারা খেলছে। তবে তারা ভালো টিম বলে অবশ্যই মাঠের লড়াইয়ে ছেড়ে দিব না। আমরা ফাইট করব, ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।’
চীনের সঙ্গে এর আগে খেলেনি বাংলাদেশ। তাই প্রতিরোধ গড়ার কথা বলার পর আফঈদা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতি সমীহ প্রকাশ করেছেন, ‘চীনের সঙ্গে খেলতে পারা আমাদের একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাদের থেকে অনেক কিছু শিখব।’ রক্ষণে আফঈদাকে লড়তে হবে। চীনের আক্রমণ সামলাতে হবে গোলরক্ষকদেরও। বিশেষ করে চীনের বিপক্ষে তেকাঠির নিচে থাকা নম্বর ওয়ান গোলকিপার রুপ্না চাকমাকে দিতে হতে পারে বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় যেন উতরে যেতে পারেন, সেভাবেই প্রস্তুত করছেন গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল। আর চীনের বিপক্ষে রক্ষণই মূলমন্ত্র হওয়ার কথা। কিন্তু আফঈদা খন্দকার বললেন, ‘আমরা এখানে বেশ কিছু দিন ধরেই অনুশীলন করছি। দিন দিন উন্নতি করছি। আমরা হাই লাইন ডিফেন্সেই খেলব, যা খেলেছি।’
সিডনির এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ৩০ হাজারের মতো। এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের মেয়েদের সমর্থন দিতে গ্যালারিতে গলা ফাটাবেন অনেক প্রবাসী। ধারণা করা হচ্ছে আজকের ম্যাচে গ্যালারির বেশির ভাগই প্রবাসী বাংলাদেশিতে পূর্ণ থাকবে। কিন্তু সাফল্য ও অতীত অভিজ্ঞতায় গ্যালারির দর্শকদের চাপ অনুভব করছে না চীন। পরিসংখ্যানে দুই দলের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলেও বাংলাদেশকে সমীহ করছেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ ও পরিশ্রমী দল। তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। চাপ ছাড়াই তারা সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’
এএফসিতে যেমন নতুন অভিজ্ঞতা, তেমনি করে মাঠেও নতুনের সঙ্গে পরিচিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারের এশিয়ান কাপে থাকছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। এই প্রথম ভিআরের সঙ্গে দেখা পিটার বাটলারের দলের। তাই নতুন কিছুর সামনে দাঁড়ানো স্বপ্না রানী-মনিকা চাকমাদের মতো রোমাঞ্চিত পুরো বাংলাদেশ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















