আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি বছর নতুন করে নিতে হয় ফ্লু ভ্যাকসিন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এমন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে, যা কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং সুরক্ষা দেবে অনেক ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে।
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে। ফ্লু হলে সাধারণত জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও কাশি হয়, যা এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় মানুষকে অসুস্থ করে রাখে। প্রতি বছর ফ্লুতে আক্রান্ত লাখ লাখ মানুষ কাজ করতে পারে না। সাধারণ বছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই রোগে মারা যায়।
ফ্লু খুবই কষ্টদায়ক রোগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এক বছর ফ্লু হলে পরের বছর আর হবে না- এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস খুব চতুর। এটি বারবার রূপ বদলায়। যাতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।
এসব কারণেই প্রতি বছর ফ্লু টিকা নিতে হয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ডিউক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক নিকোলাস হিটন। মৌসুমি ফ্লু টিকা প্রতি বছর বহু মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধ করে, তবে এটি পুরোপুরি নিখুঁত সমাধান নয়। সাধারণত এর কার্যকারিতা সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়। তবে কোনো কোনো বছরে, যখন টিকার উপযোগিতা ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সঙ্গে পুরোপুরি না মেলে, তখন কার্যকারিতা আরও কমে যেতে পারে।
যদি এমন হতো যে প্রতি বছর নতুন করে টিকা নিতে হবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে হিটনের গবেষণাগারসহ বিশ্বের আরও অনেক বিজ্ঞানীরা। তারা ‘সর্বজনীন’ ফ্লু টিকা তৈরির চেষ্টা করছেন, যা বর্তমান মৌসুমি টিকার চেয়ে বেশি, বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেবে। এর লক্ষ্য হলো- অনেক ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া বা টিকার কার্যকারিতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা- অথবা সম্ভব হলে দুটি কাজই হবে।
বর্তমানে প্রায় এমন এক ডজন ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক ভ্যাকসিন এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসব উদ্যোগ পরবর্তী প্রজন্মের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের উন্নয়নের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির গবেষক জুলি অস্ট্রোভস্কি জানান, এটি বেশ চমৎকার প্রকল্পের একটি সমষ্টি। অবশ্য এটি জটিল চ্যালেঞ্জও, সফলতা রাতারাতি সম্ভবও নয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















