ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে বাড়ির উঠানে পড়েছিল দাদির লাশ আর সরিষাক্ষেতে নাতনির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে দাদি-নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, কিশোরী নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে কুপিয়ে হত্যা এবং পরে নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​নিহতরা হলেন- ভবানিপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল খা’র মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে কুপিয়ে হত্যা এবং পরে নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জামিলার বাবা জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করেন। বাড়িতে দাদি ও নাতনি একসঙ্গে বসবাস করতেন। শুক্রবার মধ্যরাতে ওই বাড়ি থেকে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তবে কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান বলে জানান স্থানীয়রা।

​তবে ভোরে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নাতনি জামিলা নিখোঁজ থাকায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেত থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা নাতনিকে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে দাদি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বৃদ্ধাকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে কিশোরীকে পাশের সরিষাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

​ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

​এই জোড়া খুনের ঘটনায় ভবানিপুর গ্রামে শোকের পাশাপাশি চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ঈশ্বরদীতে বাড়ির উঠানে পড়েছিল দাদির লাশ আর সরিষাক্ষেতে নাতনির

আপডেট সময় ১১:২৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে দাদি-নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, কিশোরী নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে কুপিয়ে হত্যা এবং পরে নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​নিহতরা হলেন- ভবানিপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল খা’র মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে কুপিয়ে হত্যা এবং পরে নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জামিলার বাবা জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করেন। বাড়িতে দাদি ও নাতনি একসঙ্গে বসবাস করতেন। শুক্রবার মধ্যরাতে ওই বাড়ি থেকে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তবে কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান বলে জানান স্থানীয়রা।

​তবে ভোরে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নাতনি জামিলা নিখোঁজ থাকায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেত থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা নাতনিকে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে দাদি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বৃদ্ধাকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে কিশোরীকে পাশের সরিষাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

​ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

​এই জোড়া খুনের ঘটনায় ভবানিপুর গ্রামে শোকের পাশাপাশি চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।