ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানা ঘেরাওয় করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দিবাগত রাতে পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিচারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় জনতা।

মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী। পরিবারটি থাকে পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায়।

শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল খেলতে।

এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা বাইরে থেকে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে শিশুটি মারা গেছে। পরে সেখান থেকে লাশটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, আজ রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। মামলায় কোনো আসামির নাম ব্যবহার না করলেও তদন্ত সাপেক্ষে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানা ঘেরাওয় করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দিবাগত রাতে পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিচারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় জনতা।

মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী। পরিবারটি থাকে পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায়।

শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল খেলতে।

এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা বাইরে থেকে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে শিশুটি মারা গেছে। পরে সেখান থেকে লাশটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, আজ রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। মামলায় কোনো আসামির নাম ব্যবহার না করলেও তদন্ত সাপেক্ষে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।