ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্জ্য সংগ্রহে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে নতুন ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন এ দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা: প্রধানমন্ত্রী কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজনে আবারও ‘বোমা ফেলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে পরাজিতদের দ্বারে বিজয়ীরা, পাশে থাকার আশ্বাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের। যেখানে সাধারণত নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বা সংঘাতের শঙ্কা থাকে, সেখানে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সহযোগিতার আশ্বাস নতুন বার্তা দিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

শুক্রবার ও শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থীদের বাসা ও কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবু সুফিয়ান পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এফসিএ তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। জবাবে আনোয়ার সিদ্দিকী সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আসলাম চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন মিষ্টি ও ফুল নিয়ে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বাড়িতে যান। সেখানে তারা কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করেন। সাইফুর রহমান বলেন, “নুরুল আমিন ভাই আমার বাড়িতে আসায় আমি খুব আনন্দিত। আমরা চাই মিলেমিশে একটি আলোকিত মীরসরাই গড়ে তুলতে।” তিনি উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নুরুল আমিন বলেন, “নির্বাচন একটি প্রীতি ম্যাচের মতো। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর মীরসরাই গড়ে তুলতে চাই।”

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ড. মাইজভাণ্ডারী নবনির্বাচিত এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আগামীর উন্নয়ন কার্যক্রমে ড. মাইজভাণ্ডারীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে নবনির্বাচিত এমপিকে সহযোগিতা করবেন এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে পরাজিতদের দ্বারে বিজয়ীরা, পাশে থাকার আশ্বাস

আপডেট সময় ০৭:০০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের। যেখানে সাধারণত নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বা সংঘাতের শঙ্কা থাকে, সেখানে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সহযোগিতার আশ্বাস নতুন বার্তা দিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

শুক্রবার ও শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থীদের বাসা ও কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবু সুফিয়ান পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এফসিএ তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। জবাবে আনোয়ার সিদ্দিকী সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আসলাম চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন মিষ্টি ও ফুল নিয়ে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বাড়িতে যান। সেখানে তারা কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করেন। সাইফুর রহমান বলেন, “নুরুল আমিন ভাই আমার বাড়িতে আসায় আমি খুব আনন্দিত। আমরা চাই মিলেমিশে একটি আলোকিত মীরসরাই গড়ে তুলতে।” তিনি উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নুরুল আমিন বলেন, “নির্বাচন একটি প্রীতি ম্যাচের মতো। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর মীরসরাই গড়ে তুলতে চাই।”

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ড. মাইজভাণ্ডারী নবনির্বাচিত এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আগামীর উন্নয়ন কার্যক্রমে ড. মাইজভাণ্ডারীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে নবনির্বাচিত এমপিকে সহযোগিতা করবেন এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।