ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জার্মানির মিউনিখে চলমান নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

রুবিও দাবি করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ গড়ে উঠেছিল, তা এখন ধ্বংসের মুখে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বলে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রুবিও তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যে পুরোনো পৃথিবীতে বেড়ে উঠেছি, তা এখন অতীত। ভূ-রাজনীতির এক নতুন যুগে আমরা প্রবেশ করেছি যেখানে পুরোনো নিয়মগুলো আর কাজ করছে না।

তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটন এখন এমন একটি নীতিতে বিশ্বাসী যা প্রথাগত আন্তর্জাতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ফলাফল দিতে সক্ষম। মিউনিখ সিকিউরিটি রিপোর্টেও এই পরিস্থিতিকে ‘ধ্বংসের রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যেখানে সংস্কারের চেয়ে পুরোনো ব্যবস্থার বিলোপকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং নেটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর রুবিও’র এই বক্তব্য আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রুবিও মনে করেন, ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো বড় সংকটগুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারছে না, যার ফলে এই সংস্থাটির প্রাসঙ্গিকতা এখন তলানিতে।

সম্মেলনে রুবিও আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে শুধু তাদের সাথেই অংশীদারিত্ব গড়বে যারা বাস্তবসম্মত এবং বৈশ্বিক নতুন বাস্তবতাকে মেনে চলতে প্রস্তুত। তার মতে, বিশ্ব এখন আর ১৯৪৫ সালের নীতিতে চলবে না এবং প্রতিটি রাষ্ট্রকেই তাদের নিজস্ব অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে জাতিসংঘের কার্যকারিতা অস্বীকার করে সরাসরি মার্কিন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জয়গান গেয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জার্মানির মিউনিখে চলমান নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

রুবিও দাবি করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ গড়ে উঠেছিল, তা এখন ধ্বংসের মুখে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বলে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রুবিও তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যে পুরোনো পৃথিবীতে বেড়ে উঠেছি, তা এখন অতীত। ভূ-রাজনীতির এক নতুন যুগে আমরা প্রবেশ করেছি যেখানে পুরোনো নিয়মগুলো আর কাজ করছে না।

তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটন এখন এমন একটি নীতিতে বিশ্বাসী যা প্রথাগত আন্তর্জাতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ফলাফল দিতে সক্ষম। মিউনিখ সিকিউরিটি রিপোর্টেও এই পরিস্থিতিকে ‘ধ্বংসের রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যেখানে সংস্কারের চেয়ে পুরোনো ব্যবস্থার বিলোপকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং নেটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর রুবিও’র এই বক্তব্য আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রুবিও মনে করেন, ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো বড় সংকটগুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারছে না, যার ফলে এই সংস্থাটির প্রাসঙ্গিকতা এখন তলানিতে।

সম্মেলনে রুবিও আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে শুধু তাদের সাথেই অংশীদারিত্ব গড়বে যারা বাস্তবসম্মত এবং বৈশ্বিক নতুন বাস্তবতাকে মেনে চলতে প্রস্তুত। তার মতে, বিশ্ব এখন আর ১৯৪৫ সালের নীতিতে চলবে না এবং প্রতিটি রাষ্ট্রকেই তাদের নিজস্ব অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে জাতিসংঘের কার্যকারিতা অস্বীকার করে সরাসরি মার্কিন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জয়গান গেয়েছেন।