ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জোর দিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গৌরনদীতে একযোগে আড়াইহাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি: সিআরএফের জরিপ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণায় ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সংক্রান্ত ধারণা ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় ধরনের পার্থক্য নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।

ভোটাররা এমন নেতাদের পছন্দ করছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।

ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রার্থী বা প্রার্থী-দল উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি: সিআরএফের জরিপ

আপডেট সময় ০২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণায় ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সংক্রান্ত ধারণা ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় ধরনের পার্থক্য নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।

ভোটাররা এমন নেতাদের পছন্দ করছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।

ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রার্থী বা প্রার্থী-দল উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় নেন।